দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগের যৌথ বর্ধিতসভায় ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ প্রশ্নে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এ সময় দুপক্ষের নেতাকর্মীরা কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন। তবে শেষ পর্যন্ত সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
সভায় গাইবান্ধার ৭ উপজেলার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় একটি হোটেলের মিলনায়তনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এই বর্ধিত সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় সদস্য ও আওয়ামী লীগের রংপুর বিভাগীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট সফুরা বেগম রুমি।
বর্ধিত সভায় জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক সহ গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ি) আসনের প্রার্থী উম্মে কুলসুম স্মৃতি এমপি, গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনের প্রার্থী মাহামুদ হাসান রিপন এমপিসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। মাহামুদ হাসান রিপন ও উম্মে কুলসুম স্মৃতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের ভেতরে থাকা নৌকা বিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। তারা দাবি করেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগের প্রার্থী নন। নৌকা প্রতীকের প্রার্থীই আওয়ামী লীগের প্রার্থী। কিন্তু দলের কেউ কেউ তাদের আওয়ামী লীগের পরিচয়ে সহায়তা করছেন। জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন। এদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
গাইবান্ধার ৫টি আসনে নৌকা ও জোটগতভাবে ছাড় দেওয়া আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের লাঙ্গল মার্কার বিজয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে সফুরা খাতুন রুমি বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে অংশগ্রহণমূলক, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান ও নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতেই প্রধাণমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা দলের নেতাকর্মীদের কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। যা সকলকে মানতে হবে। কোনোভাবেই দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়া যাবে না।
এ সময় সভায় থাকা একটি পক্ষ স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কীনা এই প্রশ্ন তুললে দলের দুপক্ষের মধ্যে তুমুল হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। এ সময় হট্টগোল ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে অ্যাডভোকেট সফুরা খাতুন বলেন, এ ব্যাপারে আপাতত তার কোনো মন্তব্য নেই। কেন্দ্রের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। সেটি প্রয়োজনে জানানো হবে।
এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবীর মিলন বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশই আমাদের জন্য প্রথম ও শেষ কথা। তবে কেন্দ্রীয়ভাবে ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি বৃদ্ধিসহ নানা কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে বলা হয়। তারাও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে জনগণের মধ্যে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করছেন। বিশেষ করে যেসব আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নেই সেখানে ভোটকে অর্থবহ ও সর্বজনীন করতে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ভূমিকা প্রয়োজন। তবে এ ক্ষেত্রে কেন্দ্র যে সিদ্ধান্ত নেবে সকলে মেনে নেবে বলে আমার বিশ্বাস।
সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মৃদুল মোস্তাফিজ ঝন্টু বলেন, বর্ধিত সভায় কেন্দ্রীয় সদস্য সফুরা খাতুন প্রধানমন্ত্রীর বার্তা দিয়ে গেলেন। যেখানে তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী দলের কাউকে স্বতন্ত্র দাড়াতে উৎসাহিত করেননি। তিনি চেয়েছিলেন, ডামি হিসেবে প্রতি জায়গায় প্রার্থী থাকবে। যারা প্রার্থীদের পক্ষের প্রার্থী হবেন। স্বতন্ত্র হিসেবে দলের কোনো প্রার্থিতা নেই।
উল্লেখ্য, গাইবান্ধার চারটি আসনে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র হিসেবে বেশ কজন শক্তিশালী প্রার্থী ভোটের মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
জেবি