দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিজয় দিবস উপলক্ষে দুই দিনের ছুটিতে কুয়াকাটায় পর্যটকদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। শূন্য সৈকত পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। পর্যটন নির্ভর ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক ব্যস্ততা বেড়েছে। কুয়াকাটার সৈকত ছাড়াও আশপাশের দর্শনীয় স্পটগুলো এখন পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত।
বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) ভোর রাতে বাস, মাইক্রোবাস, পরিবহন ও প্রাইভেটকারে করে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা ভিড় করতে শুরু করেছে। বর্তমানে আবাসিক হোটেল-মোটেল রিসোর্টগুলো বুকিং রয়েছে। খাবার হোটেলসহ পর্যটননির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বেচাকেনার ধুম পরে গেছে।
নির্বাচনকে ঘিরে দীর্ঘদিন হরতাল ও অবরোধের কারণে কুয়াকাটায় পর্যটক খুবই কম ছিল। বিজয় দিবসকে কেন্দ্র করে পর্যটক শূন্যতা কাটিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্যতা ফিরেছে।
আগত পর্যটকরা সৈকতের বালিয়াড়িতে আনন্দে মেতে উঠে। সৈকতে গোসল, খেলাধুলাসহ নানা বিনোদনের মধ্য দিয়ে দিন কাটিয়ে দিচ্ছেন। আগতদের সার্বিক নিরাপত্তায় তৎপর রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা।
কুষ্টিয়া থেকে বেড়াতে আসা দিপু বলেন, হরতাল-অবরোধের কারণে তারা ঘর থেকে বের হওয়ার সুযোগ পাচ্ছিলেন না। সাপ্তাহিক ছুটি ও বিজয় দিবসে হরতাল অবরোধ না থাকায় তারা বৃহস্পতিবার রাতে তিন দিনের ছুটি কাটাতে কুয়াকাটা ছুটে আসেন। এখানে এসে সমুদ্রে গোসল, দর্শনীয় স্পটগুলো ঘুরে বেড়িয়েছেন। রাখাইন মহিলা মার্কেট, বৌদ্ধ বিহার ঘুরে দেখেছেন। তারা বলেন খুবই ভালো লেগেছে এখানকার পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য। শুঁটকি, আচারসহ বার্মিজ সামগ্রী কিনেছেন।
ঢাকার মিরপুর থেকে আসা ফ্লোরা কোচিংয়ের পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, স্কুল কোচিং ছুটি হওয়ায় কুয়াকাটা ভ্রমণে আসলাম। ঢেউ আর বালুর সংমিশ্রণে দারুণ সময় কাটল কুয়াকাটায়। এককথায় কুয়াকাটা অসাধারণ। কম সময় আর কম টাকায় ভালোই ভ্রমণ করলাম।
ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সম্পাদক বলেন, অবরোধ হরতালের কারণে কুয়াকাটা পর্যটকশুন্য ছিল। বিজয় দিবস উপলক্ষে অনেক পর্যটক দর্শনার্থীদের আগমনে সৈকতের প্রাণ ফিরেছে। আমাদের ব্যবসা ভালোই হচ্ছে।
আবাসিক হোটেল সৈকতের ম্যানেজার আবজাল গাজী জানান, তাদের হোটেলে ৫০টি কক্ষ রয়েছে। সব কক্ষই বুকিং রয়েছে। আগামী থার্টি ফার্স্ট নাইট পর্যন্ত প্রচুর পরিমাণ পর্যটক সমাগম হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। ইতোমধ্যে অনেক পর্যটকরা অগ্রিম বুকিংয়ের জন্য যোগাযোগ করছেন।
কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এম এ মোতালেব শরীফ জানান, এই এক মাসের মধ্যে আজকে ভালো পর্যটক আসছে। সবগুলো হোটেলেই কমবেশি রুম বুকিং রয়েছে। চলতি মাস জুড়ে পর্যটক দর্শনার্থীদের কম-বেশি ভিড় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন এই হোটেল মোটেল সংগঠনের নেতা। তবে হরতাল-অবরোধের শঙ্কাও রয়েছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের পরিদর্শক মো. হাসনাইন পারভেজ জানান, গতকাল থেকে আজকে পর্যন্ত অনেক পর্যটক আসছে। আমরা তাদের সেবায় নিয়োজিত আছি। যেকোনো রকমের নাশতা রোধে তৎপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
কুয়াকাটা পৌর মেয়র মো. আনোয়ার হাওলাদার বলেন, বিজয় দিবসকে কেন্দ্র করে ভালো পর্যটক এসেছে। এতে করে দীর্ঘ দেড় মাস পর সকল পর্যটন ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি দেখা গেছে। তবে নির্বাচনের পর সব সংকট কেটে গিয়ে পুনরায় জমে উঠবে এই পর্যটন নগরী কুয়াকাটা।
জেবি