দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মুরাদনগরে টানা দুইবারের ভারি বর্ষণের ফলে ৫০০ বিঘা ক্ষীরা ক্ষেত নষ্ট হয়ে পড়েছে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষক। তাদের জমিতে পানি থৈ থৈ করছিল। তৃতীয়বার ক্ষীরার চারা রোপণ করে নিজেদের ক্ষতি পূরণের চেষ্টা করছে চাষিরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সম্প্রতি দুইবার ভারি বর্ষণের ফলে নষ্ট হয়ে যায় প্রায় ৫০০ বিঘা জমির ক্ষীরার চারা। প্রতি বিঘা জমিতে চারা রোপণ করতে চাষিদের খরচ হয়েছে ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা।
মুরাদনগর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ বছর ধরে কাঁদা মাটিতে ক্ষীরা চাষ করে বেশ লাভবান স্থানীয় কৃষকরা। তাই প্রতি বছর বাড়ছে ক্ষীরা চাষের চাহিদা। এ বছর প্রায় ৫০০ বিঘা জমিতে রোপণ করা হয়েছিল ক্ষীরার চারা। যা অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি। কয়েক দিনের ভারি বর্ষণে ক্ষীরার চারাসহ জমিতে থাকা টমেটো, ফুলকপি, লাল শাক, পালং শাক, শিম, ধনিয়াপাতা, লাউ, মটরশুঁটি, পেঁয়াজ পাতাসহ বিভিন্ন শীতকালীন শাকসবজির গাছ নষ্ট হয়ে গেছে।
ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার কাজী ইসমাইল হোসেন জানান, কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার করিমপুর, নয়াগাঁও, কাঁঠালিয়াকান্দা, ইউসুফনগর ও নেয়ামতপুর গ্রাম এলাকায় ৫০০ বিঘা জমিতে ক্ষীরার চারা ভারি বর্ষণের ফলে নষ্ট হয়ে গেছে। প্রতি বিঘা জমিতে চারা রোপণ করতে চাষিদের খরচ হয়েছে ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা। বর্তমানে তৃতীয়বার চারা রোপণের পর ক্ষীরার চারাগুলো একটু বড় হয়ে ফুল ফুটেছে।
ক্ষীরা চাষি নাতু মিয়া জানান, চলতি মৌসুমে তিনবার ক্ষীরার চারা আবাদ করেছি। চারার অবস্থা দেখে মনে হয়েছে ফলনও এবার যথেষ্ট ভালো হবে। টানা দুইবার বর্ষণে ক্ষীরার চারা ক্ষেত ডুবে গিয়েছিল। এতে চারা মরে কাদামাটিতে মিশে গিয়েছিল। তৃতীয়বার ক্ষীরার চারা আবাদ করেছে সফল ব্যাবসায়ী কৃষক জুরু মিয়া, ঝর্ণা বেগম, মাহমুদা বেগম, শাহ আলম ও ছাত্তার মিয়া।
মুরাদনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পাভেল খান পাপ্পু জানান, এ বছর প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে ক্ষীরার চারা আবাদ করা হয়েছে।
তবে ভারী বর্ষণে প্রায় ৮০ ভাগ ক্ষীরার চারা কাদাপানির নিচে চলে গিয়েছিল। বর্তমানে যে জমিগুলো কিছুটা ভালো আছে সেগুলো বাচাঁতে কৃষকদের করণীয় সম্পর্কে আমাদের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।
আগামী বছর কীভাবে আরও বেশি ফলন উৎপাদন করা যায় সেই লক্ষে উপজেলা কৃষি অফিস জোড়ালো ভূমিকা রাখবে।
জেবি