দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

তৎকালীন সময়ে মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের ঝিটকা এলাকার খ্যাতিমান ডাক্তার ছিলেন লুৎফর রহমান। স্থানীয় দরিদ্র ও খেটে খাওয়ায় মানুষের সেবা দিতে ঝিটকা বাজারে গড়ে তুলেছিলেন ডা. লুৎফর রহমান ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার।
তার মৃত্যুর পর ক্লিনিকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদে হাল ধরেন তার ছেলে আক্তারুজ্জামান বাবুল। বাবার সঙ্গে থেকে এবং ফার্মেসি থেকে চিকিৎসা বিদ্যার কিছু শিক্ষা নিয়েছিল বাবুল। সেই বিদ্যাকে পুঁজি করে কোনো ডিগ্রি না থাকলেও শিশু, গাইনি, মেডিসিনসহ সর্ব রোগের মস্ত বড় ডাক্তার বনে গেছেন বাবুল। তাই অতি সহজেই নিতান্ত দরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে দুহাতে টাকা কামিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি রীতিমতো সিরিয়ালের মাধ্যমে ভিজিট নিয়ে রোগী দেখে চিকিৎসাপত্র করে ওষুধ দিয়ে আসছেন তিনি। তবে তিনি কোনো ডাক্তারি পদবী উল্লেখ করে কোন প্যাডে চিকিৎিসাপত্র দেন না। চিকিৎসাপত্র দেন সাদা প্যাডে।
রোগ নির্ণয়ের পর ব্যবস্থাপত্র দিয়ে ক্লিনিকেরই ওষুধের দোকান থেকে ওইসব রোগীদের কাছে ওষুধ বিক্রি করছেন। আবার রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে কখনও কারও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হলে এখানেই সে ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। তবে এখানে যেসব মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন তারা নিতান্তই গরিব ও অশিক্ষিত। তাই তাকে মস্ত বড় ডাক্তার হিসেবেই চিনে তারা।
এ বিষয়ে একাধিক সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, এটি এক ধরনের প্রতারণা। ডাক্তারি কোনো পড়াশোনা নেই তার। তারপরও ভিজিট নিয়ে সকল প্রকার জটিল রোগের চিকিৎসা দিচ্ছেন এটা দু:খজনক। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগসহ প্রশাসনের সকল স্তরের কর্মকর্তারা যেন এ বিষয়টি গুরুত্ব দেন। যাতে করে গ্রামের সহজ সরল কোনো ব্যক্তি প্রতারণার মাধ্যমে অপচিকিৎসার শিকার না হয়।
এ বিষয়ে বাবুলের কাছে চিকিৎসা নিতে আসা একাধিক রোগী জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে দেখে আসছেন শিশুসহ প্রায় সকল রোগের চিকিৎসা দিয়ে আসছেন তিনি। তবে তিনি যে কোনো ডাক্তারি পড়াশোনা করেননি তা তারা জানেন না।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বাবুল জানান, তার বাবার মৃত্যুর পর ক্লিনিকটি ধরে রাখতে দায়িত্ব নেন। চিকিৎসা বিদ্যার কয়েকটি কোর্স করেছেন। সাদা প্যাডে সামান্য ভিজিট নিয়ে রোগী দেখেন। তবে এটি ঠিক করছেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোয়াজ্জেম আলী খান বলেন, এমবিবিএস ডিগ্রি ছাড়া চিকিৎসাপত্র ও কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।
জেবি