দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পেঁয়াজের ঘাটতি পূরণে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষে ইতোমধ্যে বিপ্লব ঘটিয়েছে চুয়াডাঙ্গা জেলার চাষিরা। চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় পেঁয়াজ চাষে সফলতা এসেছে। সেই প্রেক্ষিতে শীতকালীন পেঁয়াজ রোপণেও আগ্রহ বেড়েছে।
দেশে উৎপাদন করা পেঁয়াজ ফুরিয়ে যাওয়ার পর স্বাভাবিকভাবে দাম বাড়ে পেঁয়াজের। তাই ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের ওপর নির্ভর করতে হয় সরকারকে। তারপরও দাম থাকে আকাশছোঁয়া। তাই ভালো দাম পাওয়ার আশায় পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ বেড়েছে চুয়াডাঙ্গার চাষিদের।
অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে বীজতলা তৈরির কাজ। এরপর বীজতলা থেকে চারা তুলে জমিতে রোপণ করেছেন চাষিরা। আগামী জানুয়ারিতে বাজারে পাওয়া যাবে এই পেঁয়াজ। কৃষি বিভাগের তথ্য মতে চুয়াডাঙ্গা জেলায় এ বছর সর্বমোট চলতি অর্থবছরে গ্রীষ্মকালীন ১৫৩৯ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে ২৮ হাজার ১৬৪ মেট্রিক টন। চলতি বছরে শীতকালীন পেঁয়াজের চাষ হয়েছে প্রায় ১৬০০ হেক্টর জমিতে। ইতোমধ্যে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষে দুই হাজার ১০০ কৃষককে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পেঁয়াজের বীজ ও সার রয়েছে। তাছাড়া পেঁয়াজের বীজতলা থেকে শুরু করে সমস্ত উপকরণ বিনামূল্যে দিয়েছে কৃষি বিভাগ।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী বিগত ২০১৯-২০ অর্থবছরে জেলায় ১০১০ হেক্টর জমি থেকে চাষ হয়েছে ১৮ হাজার ১৮০ মেট্রিক টন । ২০২০-২১ অর্থবছরের ১৯৮৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছিল ৩৬ হাজার ৭২৩ মেট্রিক টন। ২০২১-২২ অর্থবছরে বছরে ১৮৬৩ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছিল ৩৪ হাজার ৪৬৫ মেট্রিক টন। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৫৩৯ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে ২৮ হাজার ১৬৪ মেট্রিক টন। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা ১৬০০ হেক্টর।
পেঁয়াজ চুয়াডাঙ্গা জেলার চাহিদা পূরণ করে সারাদেশে রপ্তানি করতে পারবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ। চুয়াডাঙ্গা জেলায় পেঁয়াজ সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে দামুড়হুদা উপজেলায়। গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষিরা বলছেন, খুব অল্প খরচে ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে। কৃষি বিভাগও এখন গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষের বিশেষ প্রণোদনা দিচ্ছে। বর্তমান সরকার বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়ায় চাষিরা এখন এই পেঁয়াজ চাষে ঝুঁকছেন।
দাম ভালো হওয়ায় জেলায় পেঁয়াজের চাষে আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্য সব ফসলের পাশাপাশি পেঁয়াজ চাষের প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছে চাষিরা। চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সেখানে মাঠের পর মাঠ জুড়ে পেঁয়াজের চারা রোপণ করেছেন চাষিরা। পরিচর্যায় চাষিদের দম ফেলার সময় নেই। সারিবদ্ধভাবে পেঁয়াজ রোপণ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। দামুড়হুদা উপজেলা ঘুরে দেখা যায়, পেঁয়াজের জমিতে চাষিরা পরিচর্যা করছেন। এ সময় পেঁয়াজ চাষি হোসেন জানান, এক বিঘা পেঁয়াজ করতে খরচ হয় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত। চলতি মৌসুমে পেঁয়াজের আগাম চাষ করা হয়েছে। পেঁয়াজের বাজারমূল্য ভালো পাবেন বলে আশা করছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিভাস চন্দ্র সাহা বলেন, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষে ইতোমধ্যে জেলার দুই হাজার ১০০ চাষিকে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ানো এবং আমদানি নির্ভরতা কমানোর জন্য গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষে জোর দেওয়া হচ্ছে।
জেবি