দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ঠান্ডা, নিউমোনিয়া, জ্বরসহ ব্যাপকভাবে বেড়েছে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। রোগীর চাপ মাঝে মধ্যে এতটাই বেশি হচ্ছে যে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে শিশু ওয়ার্ডে দায়িত্বরত নার্সদের।
দায়িত্বে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা বলছেন, দিনের পর দিন আবহাওয়ার কারণে এসব রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৮০০’র অধিক। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে শতাধিক রোগীর অধিক ভর্তি রয়েছে।
এর মধ্যে ডায়রিয়ায় ভর্তির শিশুর সংখ্যা ৫০ জন। ঠান্ডা, কাশি, জ্বর, নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশু ভর্তি আছে ৬০ জন। শিশু ওয়ার্ডের কর্তব্যরত মাত্র দুজন স্টাফ নার্সকে শতাধিক রোগীর সেবা দিতে হচ্ছে।
জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গত সাত দিনে ভর্তি হয়েছে আট শতাধিক। এর মধ্যে নিউমোনিয়া জ্বর, কাশি এবং ঠান্ডাজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে গত ১ ডিসেম্বর ৫৪ জন, ২ ডিসেম্বরে ৪৬ জন, ৩ ডিসেম্বর ৫৫ জন, ৬ ডিসেম্বর ৫২ জন, ৫ ডিসেম্বর ৬০ জন, ৬ ডিসেম্বর ৬৩ জন এবং ৭ ডিসেম্বর ৬৭ জন।
ডায়রিয়া ওয়ার্ডে গত এক সপ্তাহে ভর্তি শিশুর সংখ্যা ১ ডিসেম্বরে ২৯ জন, ২ ডিসেম্বর ৩৫ জন, ৩ ডিসেম্বর ২৯ জন, ৪ ডিসেম্বর ৩৬ জন, ৫ ডিসেম্বর ৩০ জন, ৬ ডিসেম্বর ২৪ জন এবং ৭ ডিসেম্বর ১৮ জন।
নিউমোনিয়া নিয়ে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি আলমডাঙ্গা উপজেলার গৌরী হাদ গ্রামের কোহিনুর বেগম বলেন, আমার দুই মাসের শিশু নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়েছে। তাকে নিয়ে গত পরশু দিন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। শিশু ওয়ার্ডে বেড না পাওয়ায় ফ্লোরে শিশুকে নিয়ে আছি। কিছু করার নেই। রোগীর যে পরিমাণ চাপ তাতে বেড পাব কীভাবে। এখানে নিয়মিত ডাক্তাররা আসে। সেইসঙ্গে সিস্টাররাও নিয়মিত আমার সন্তানকে দেখাশোনা করছে। আমি তাদের সেবায় খুবই সন্তুষ্ট।
একইভাবে ঠান্ডায়, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরের দিননাথপুর গ্রামের তিন বছর বয়সী আব্দুল্লাহর বাবা আব্দুর রহমান বলেন, আমি আমার সন্তানকে নিয়ে গত তিন দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। যখন ভর্তি হয় তখন সন্তানের অবস্থা ভালো ছিল না। আল্লাহর মেহেরবানিতে এখন অনেক ভালো। বেড না পেয়ে ফ্লোরে আছি। অধিক রোগীর চাপ। আমি নিয়মিত সেবা পাচ্ছি।
একই অবস্থা হাসপাতালের শিশু ডায়রিয়া ওয়ার্ডে। নতুন এই ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে অনেক শিশু। প্রতিদিনই ডায়রিয়ায় কোনো না কোনো শিশু ভর্তি হচ্ছে। ঠান্ডায় ডায়রিয়াজনিত কারণে শিশুদের চিকিৎসা দিতে একটু হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তব্যরত নার্স সহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।
ডায়রিয়া ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স বলেন, যেখানে দুটি স্টাফ নার্স থাকার কথা সেখানে শুধু আছি আমি একা। আমার একটু কষ্ট হচ্ছে। আমার সঙ্গে যারা জুনিয়ার নার্স আছে তারা আমাকে অনেক সহযোগিতা করছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা সেবা দিয়ে যাচ্ছি।
ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রোগীদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আবহাওয়া পরিবর্তনের জন্য বাচ্চাদের ঠান্ডা লাগছে। যার কারণে ডায়রিয়াসহ অন্যান্য রোগ হচ্ছে। এখানে সীমিত বেড রয়েছে। তাই ফ্লোরে থাকতে হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (শিশু) মাহবুবুর রহমান মিলন মুঠোফোনে জানান, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা দিনের পর দিন বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের বহির্বিভাগে প্রায় ২৫০ রোগী দেখতে হচ্ছে প্রতিদিনই। আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বাঁচ্চাদের ঠান্ডা, জ্বর, সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া, এজমা, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন ঠান্ডাজনিত রোগ হচ্ছে। রোগীর চাপে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. এ এস এম ফাতেহ আকরাম বলেন, ‘আমাদের চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে বর্তমানে গত সাত দিনে প্রায় ১১০০ রুগি ভর্তি আছে। এদের মধ্যে শিশু রোগির সংখ্যা বেশি।
জেবি