দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

প্রকৃতিতে যেন বসন্ত লেগেছে। অথচ এখন অগ্রহায়ণ মাস। মাঝে মধ্যে সকাল আর বিকেল কুয়াশায় প্রতিচ্ছবি একটু হলেও দেখা যাচ্ছে। দূর থেকে হলুদ আভার হাতছানি। চারদিকে যেন হলুদের সমাহার। ঠিক যেন মনে হচ্ছে রূপকথার রাজকুমারীর গায়ে হলুদ। সবাই কনেকে দলবেঁধে হলুদ দিতে এসেছেন। প্রজাপতি, মৌমাছি, হলুদিয়া-নীলরঙা পাখি, পোকামাকড়রাও এসেছে দলবেঁধে। দেখে মনে হচ্ছে এ যেন হলুদের মিলনমেলা।
সবাই যেন একেবারে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে হলুদের উপর। রোদ উঠলেই হলদুও যেন জ্বলে উঠছে। অবশ্য ঝাঁঝালো ঘ্রাণ থাকলেও শীতে তেমন গন্ধ পাওয়া যায় না। অবশ্য বিজ্ঞানীরা একে বায়ু বিশুদ্ধকরণ ঘ্রাণ বলে বিবেচনা করেন। মেডিকেলের ভাষায় ফুসফুসের উপকার হয় সরিষা ফুলের ঘ্রাণে।
তাই শীতে একেবারে বসে না থেকে দূরে কোনো প্রান্তরে হলুদের সঙ্গে মিশে যান একদিন। সেখানে, সবাই কোনো না কোনো কাজে ব্যস্ত। কেউ কারও দিকে তাকানোর সময় নাই। কৃষকরা মহাব্যস্ত। তারা এখন সরিষা তুলছে। ভ্রমর মধু খুঁজে ফিরছে ফুলে ফুলে। সরিষা ক্ষেতের মাঝে দাঁড়ালে তার ঘ্রাণ আপনাকে মুগ্ধ করে দেবে। আর দিনের বেলায় সরিষা ক্ষেতে প্রচুর পরিমানে অক্সিজেন থাকে। মিষ্টি গন্ধ ভুলিয়ে দিবে শহুরে জীবনযাপনের বিরক্তি। সরিষার ঝাঁজে প্রজাপতিসহ অন্যান্য পোকামাকড় তাদেরও উপকার মেলে। অনেক দূর উড়ে উড়ে ঘুরে বেড়ানোর পর সরিষার মাদকতা তাদের আকৃষ্ট করে।
তারা এসে জিরিয়ে নেয় খানিকটা কোনো ফুলের অথবা পাতার গোড়ায়। আর সেখানেই ঘটে একেবারে বিপত্তি। প্রজাপতি খাদকরা এর মধ্যেই হাজির হয়ে গেছে আশপাশে। ঘাপটি মেরে আছে কখন ঠোকর মেরে তুলে নিয়ে যাবে রঙিন ডানার প্রজাপতি।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিভাস চন্দ্র সাহা বলেন, এবার চুয়াডাঙ্গা জেলার চারটি উপজেলায় রবি মৌসুমে সরিষা চাষ হয়েছে তিন হাজার ১৫ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ৩১০ হেক্টর। আলমডাঙ্গা উপজেলায় দুই হাজার ৪৫ হেক্টর। দামুড়হুদা উপজেলায় ২৫০ হেক্টর এবং জীবননগর উপজেলায় ৪১০ হেক্টর। এ বছরে জেলায় প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে ১২ হাজার ৬০০ জনকে।
এর মধ্যে সদর উপজেলার ১ হাজার ১২০ জন। আলমডাঙ্গা উপজেলায় ৮ হাজার ৬৪০ জন। দামুড়হুদা উপজেলায় ১ হাজার ৪৩০ জন এবং জীবননগর উপজেলায় ১ হাজার ৪১০ জনকে কে। প্রায় প্রতি বছর সরিষার আবাদ বাড়ছে। আমরা চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে কৃষকদের সরিষা চাষে উদ্বুদ্ধ করছি।
জেবি