দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শিক্ষা সফরে বের হয়ে আর বাড়ি ফেরা হলো না নাটোরের কলেজ শিক্ষক সুইটের। এ ঘটনা ঘটেছে নাটোরের বড়াইগ্রামে।
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার রাজাপুর ডিগ্রি কলেজের সকল শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়ে শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) মেহেরপুরের ঐতিহাসিক মুজিবনগরে ছিল শিক্ষা সফর।
মনোবিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক (প্রদর্শক) শামীম কবির সুইটও ছিলেন শিক্ষা সমরের সেই দলে। সকাল ১০টার দিকে কলেজ চত্বর থেকে দুটি বাসে মুজিবনগরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন শিক্ষক-কর্মচারীরা। মাত্র এক কিলোমিটার যাওয়ার পরে মুলাডুলি রেলগেটের কাছে অসুস্থতা বোধ করেন সুইট। তিনি সহকর্মীদের গাড়ি থামাতে বলেন।
গাড়ি থামতে না থামতেই সুইট সহকর্মী মনির কোলে ঢলে পরেন। সকলে ধরাধরি করে গাড়ি থেকে দ্রুত নামিয়ে রাজাপুর বাজারের শশী ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। কর্তব্যরত চিকিসক শিক্ষক সুইটকে মৃত ঘোষণা করেন। মুহূর্তে সফরের আনন্দ বিলীন হয়ে বিষাদে পরিণত হয়। সহকর্মীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। সবারই মতামতের ভিত্তিতে অধ্যক্ষ সফর বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে কলেজে ফিরে আসেন।
পরে কলেজ অধ্যক্ষের মাইক্রোবাসে তুলে সুইটের মরদেহ নেওয়া হয় তার গ্রামের বাড়ি উপজেলার পাঁচবাড়িয়া গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের ডাক্তার মুসলেম উদ্দিনের ছেলে। শিক্ষক সুইট এক মেয়ে ও এক ছেলের জনক। মেয়ে হুমায়রা জাহান পাঁচবাড়িয়া বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থী আর ছেলে ফাহিম কবীর রাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে সপ্তম শেষ করে অষ্টম শ্রেণিতে উঠবে। তার স্ত্রী গৃহিনী।
সুইটের একমাত্র ছোটভাই খলিশাডাঙ্গা কলেজের প্রভাষক মাসুম বলেন, আমরা মাত্র দুটি ভাই। এখন মাকে কেমন করে বুঝাবো। ভাই সকালে সফরে গিয়ে এভাবে লাশ হয়ে ফিরবে বিশ্বাস হচ্ছে না।
রাজাপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ তুগলক বলেন, শিক্ষক শামীম কবির কলেজের প্রতিষ্ঠা লগ্নেই এই প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেন। তিনি সকলের প্রিয়জন ছিলেন। সবার সঙ্গেই ছিল সৎভাব। তার মৃত্যুতে আমারা একজন দক্ষ সহকর্মীকে হারালাম।
জেবি