দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শেরপুরের কুখ্যাত আনসার ডাকাত রাতের আঁধারে ডেগার (ধারালো দেশীয় অস্ত্র) ঠেকিয়ে ছিনতাই করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়লেও ওই ছিনতাইকারীর বিরুদ্ধে প্রথমে পুলিশ মামলা না নেওয়ায় উল্টো আটককারীর পরিবারের বিরুদ্ধে আদালতে ছিনতাই মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অথচ কুখ্যাত ওই ডাকাতের বিরুদ্ধে একাধিক চুরি-ডাকাতি, হত্যা ও ভুয়া সিআইডি সেজে প্রতারণার মামলায় জেলখাটা আসামি বলে জানা গেছে।
তবে এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকরা সংবাদ সংগ্রহের জন্য সরেজমিনে মাঠে নামলে বাধ্য হয়ে ঘটনার তিন দিন পর মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) ওই ছিনতাইকারী কুখ্যাত ডাকাতের বিরুদ্ধে চুরির মামলা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন সদর থানার ওসি।
ঘটনাটি ঘটেছে শেরপুর সদর উপজেলার ভাতশালা ইউনিয়নের কুঠুরাকান্দা গ্রামে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, গত ২ ডিসেম্বর সদর উপজেলার ভাতশালা ইউনিয়নের কুঠুরাকান্দা গ্রামের হত-দরিদ্র আরশাদ আলী গোয়ালের দুই ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর উদ্দেশে স্থানীয় একটি সমিতি থেকে ১ লাখ টাকা এনে ঘরে রাখেন। এ খবর ওই আনসার ডাকাত পেয়ে ওই দিন রাত সারে ১০ টার দিকে আরশাদের বড় ছেলে আব্দুর রশিদের ঘরে প্রবেশ করে ডেগার ঠেকিয়ে টাকা বের করতে বলে। এ সময় আব্দুর রশিদের ডাক-চিৎকারে অন্য ঘর থেকে তার বাবা-ভাই ও আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। এদিকে ডাকাত আনসার অবস্থা বেগতিক দেখে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে আরশাদের বাড়ির লোকজন এবং স্থানীয়রা তাকে ধরে ফেলে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে রাত ১২ টার দিকে শেরপুর সদর থানার এএসআই আলী এসে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে এ ঘটনায় পরদিন সকালে আরশাদ গোয়াল বাদী হয়ে লিখিত অভিযোগ নিয়ে গেলে ওসি জানায়, তার বিরুদ্ধে আগের মামলা আছে তাই নতুন করে মামলা করার দরকার নেই। একথা শুনে আরশাদ আলী ও তার ছেলে আব্দুর রশিদ থানা থেকে চলে আসে।
এদিকে সদর থানার ওসি বশির আহমেদ বাদল আটক ওই ছিনতাইকারী কুখ্যাত আনসার ডাকাতকে গুরুতর আহত দেখিয়ে গত রোববার বিকেলে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন এবং হাসপাতালের ভর্তি রেজিস্ট্রিতে পুলিশ কেস দেখানো হয়।
অপর দিকে ঘটনার তিনদিন পর আনসার ডাকাতের নিকট আত্মীয় রুমা আক্তারকে দিয়ে আরশাদ আলীসহ তার তিন ছেলের বিরুদ্ধে শেরপুরের সিআর আমলী আদালতে একটি ছিনতাই মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি সোমবার সদর থানায় তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার আদেশ দেন সিআর আদালতের বিচারক।
এদিকে এ ঘটনায় আরশাদ আলীসহ তার তিন ছেলে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে সোমবার সকালে সরেজমিনে ওই গ্রামে গেলে জানা যায় কুখ্যাত আনসার ডাকাতের নানা অপকর্ম।
স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানায়, আনসার ডাকাতের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ এবং আতঙ্ক থাকে সব সময়। তার বিরুদ্ধে জেলার বিভিন্ন থানায় হত্যা, চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই এবং ভুয়া পুলিশ সেজে প্রতারণার একাধিক মামলা রয়েছে। সবশেষ ২০২২ সালের ১২ অক্টোবর জেলার ঝিনাইগাতি থানা পুলিশ ওই আনসার ডাকাতকে ভুয়া সিআইডি অফিসার পরিচয় দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। ওই ঘটনায় ঝিনাইগাতি থানার এসআই মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন বাদী হয়ে দঃবিঃ১৭০/৪১৯ ধারায় মামলা নং-০৬ (১০) (২২) মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে আনসার ডাকাত ওই মামলায় জামিনে বের হয়ে এসে আবারও তিনি ডাকাতি-ছিনতাই শুরু করেছে বলে স্থানীয়রা জানায়।
এ বিষয়ে আরশাদ আলী জানায়, আমার ঘরে ডাকাতি করতে আসা আনসার ডাকাতকে হাতেনাতে ধরে পুলিশে দেয়া হলোও এরপর প্রথমে ওসি আমাদের দায়ের করা মামলা না নেওয়ায় উল্টো আনসার ডাকাত আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ বিষয়ে এএসআই আলী জানায়, আমি শনিবার রাতে আনসারকে ডাকাত সন্দেহ কুঠুরাকান্দা গ্রামের মানুষ বেঁধে রাখার খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এবং পরদিন বিকেলে তাকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ওসি স্যারের নির্দেশ। এর চেয়ে বেশি কিছু আমি জানি না।
তবে এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বশির আহমেদ বাদল প্রথমে আনসার ডাকাতের আটকের ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানালেও পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তথ্য প্রমাণ দেখাতে চাইলে তিনি পরে স্বীকার করেন এবং জানান, আনসারের বিরুদ্ধে চুরির মামলা দায়ের করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক ডাকাতিসহ নানা মামলার বিষয়ে ওসি বাদল জানায়, শেরপুর সদর থানায় পূর্বের একটি চুরির মামলা রয়েছে, তবে ডাকাতির মামলা নেই। অন্য থানায় থাকতে পারে। এছাড়া তিনি ওই আনসার ডাকাত ঝিনাইগাতি থানায় ভুয়া সিআইডি কর্মকর্তা সেজে গ্রেপ্তারের বিষয়টি তিনি জানেন না বলে জানায়।
এম