দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

১২৫ বছর পূর্তিতে শরীয়তপুরের নড়িয়ায় বিঝারী উপসী তারা প্রসন্ন উচ্চ বিদ্যালয়ের নবীন- প্রবীণ শিক্ষার্থীরা এসেছিলেন প্রিয় বিদ্যাপীঠ প্রাঙণে।
শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দিনভর নানান আয়োজনে আড্ডায় কাটিয়েছেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর জেলার অবস্থান পদ্মা মেঘনা ও কীর্তিনাশা নদীর অববাহিকায়। অধিকাংশ এলাকাই ছিল চরাঞ্চল। মানুষের কৃষিকাজ ও নদীতে মাছ শিকার করা ছিল প্রধান পেশা। এলাকার মানুষের পড়ালেখা করার কোনো উচ্চ বিদ্যালয় ছিল না। ছেলেরা শিশু-কিশোর বয়সে কৃষিকাজ ও মাছ শিকার করত এবং মেয়েদের শিশু ও কিশোর বয়সে বিয়ে দেওয়া হতো।
এমন পরিস্থিতিতে পশ্চাতপদ এলাকা উপসীতে ১৮৯৮ সালের ১ ডিসেম্বর একটি উচ্চবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত করা হয়। তারা প্রসন্ন ভাট্টাচার্য নামের এক ব্যক্তি ২ একর ৭ শতাংশ জমির ওপর বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ১ হাজার ২৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শুক্রবার বিদ্যালটির ১২৫ বছর পূর্তি হয়েছে।
১২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা দিনব্যাপী আয়োজন করেন বিভিন্ন অনুষ্ঠানের। বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা এতে যোগ দেন। সকালে বিদ্যালয়ের মাঠে বর্তমান শিক্ষার্থীরা শোভাযাত্র বের করে।
এরপর বর্তমান শিক্ষার্থীরা রচনা প্রতিযোগিতা, কুইজ প্রতিযোগিতা, কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। এরপর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার প্রদান করা হয়। বিদ্যালয় প্রাঙনে থাকা শহীদ মিনারের সামনে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে কেক কেটে ও মিষ্টি বিতরণ করে বিদ্যালয় দিবস উদযাপন করেন।
বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী সত্যজিৎ ঘোষ শরীয়তপুর সদর থেকে এসেছেন এ আনন্দ উপভোগ করতে। তিনি বলেন ২৮ বছর আগে বিদ্যালয়ের আঙিনা ছেড়েছি। আজ বিদ্যালয়ে এসে কৈশোরের উচ্ছ্বাস ফিরে পেয়েছি। শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা হয়েছে। অনেক ভালো লেগেছে।
ভোজেশ্বর বাজারের ব্যবসায়ী রতন হাওলাদার। তিনি বর্তমানে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি। ১৯৮৯ সালে বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। তিনি বলেন, আসলে কি বলবো ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। এতো আনন্দ লাগছে। অনেকদিন পর বিদ্যালয়ের প্রাক্তন অনেক শিক্ষার্থী ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়েছেন। আনন্দ, উচ্ছ্বাস ও আড্ডায় মেতে উঠেছেন। দিনটি হৃদয়ে গেঁথে রাখব।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ নুরুল আমীন রতন বলেন, আজ বিদ্যালয়টি ১২৫ বছর দাঁড়িয়েছে। অনেক ইতিহাস ঐতিহ্য বহন করা বিঝারী উপসী তারা প্রশন্ন উচ্চ বিদ্যালয়টি। বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক আবু ইসাহাকসহ এ বিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা করেছেন সরকারের অনেক সচিব, সংসদ সদস্য, পুলিশের সাবেক আইজিপি ও অনেক বরেণ্য ব্যক্তিরা।
এই বিদ্যালয় সবসময় ভালো রেজাল্ট এবং খেলাধুলা সাংস্কৃতিক সবকিছু দিক থেকেই এগিয়ে থাকে। ম্যানেজিং কমিটির ব্যবস্থাপনায় এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের আয়োজনে এই প্রথমবারের মতো এটি নতুন সংযোজন। আগামী বছর পরিকল্পনা রয়েছে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের নিয়ে পুর্ণমিলনী করার।
জেবি