দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা বঙ্গোপসাগরে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মা ইলিশ রক্ষায় উপকূলের সাগর ও নদীতে ইলিশ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞায় গত ১২ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর ২২ দিন পর্যন্ত জেলেরা সমুদ্রে মাছ শিকার থেকে নিজেদের বিরত রেখেছিলেন।
অনেক আশা-ভরসা নিয়েই সমুদ্র পাবে বলে যাত্রা করছিল জেলেরা। জেলেরা যেমনটা ভাবছিল সেটা কিছুটা হলেও সফল হয়েছিল। আজ সে আশায় ভাটা লাগল রাজনৈতিক অস্থিরতায়। মাছ ধরা পড়লেও ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উপকূলীয় জেলেরা। জেলেদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। সামনের দিনগুলো কীভাবে কাটবে এ নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই।
সূত্র মতে, গত মাসের ২৮ অক্টোবর বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর ডাকা হরতাল ও অবরোধের কারণে ঠিকমতো মাছ চালান করতে না পারার কারণে তারা অর্ধেক দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। কোনো ট্রাক পাওয়া যাচ্ছে না। পাইলেও বেশি টাকা ভাড়া দিয়ে মাছ পাঠাতে হয়। এ অবস্থা স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারছেন না এখানকার জেলেরা।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, দক্ষিণাঞ্চলের মৎস্য বন্দর আলীপুর-মহিপুর ও কুয়াকাটার আড়তগুলোর সামনে স্তুপ ছিল ইলিশ মাছের। সাগর পাড়ে অনেক জেলে বসে আছেন। কেউ মাছ ধরতে জাল নিয়ে নদীতে যাচ্ছেন।
আবার কেউ জাল ফেলে তেমন মাছ না পেয়ে নদীর পাড়ে চুপচাপ বসে আছেন। নিষেধাজ্ঞা শেষে যেখানে জালভর্তি মাছ পেয়ে জেলেদের মুখে সবসময় হাসির ঝিলিক লেগে থাকার কথা। সেখানে জেলের মুখ হয়ে আছে মলিন।
কারণ নদীতে ইলিশ শিকারের আয়োজনে তাদের খরচের টাকাই ওঠছে না। ইলিশের দেখা না মেললেও পোয়া, কোরাল, লাক্কাসহ নানা জাতের সামুদ্রিক মাছ দেখা যায়। যে মাছগুলো অবরোধের আগে বিক্রি হতো ৩০০ টাকায় সে মাছ বিক্রি হয় ১৫০ টাকায়।
জেলে আরমান হোসেন বলেন, অবরোধ আর হরতালে মাছ চালান না করতে পারায় আমরা খুব লসে আছি। যে মাছ পাই তা দিয়ে কোনোমতে বেঁচে আছি।
রাসেল ফিসের স্বত্বাধিকারী মো. রাসেল বলেন, এখন সামুদ্রিক মাছে সয়লাব বাজার। দাম একেবারে কম।
মিজান নামের এক আড়তদার জানান, কুয়াকাটার বিভিন্ন আরতগুলোতে ইলিশের তেমন দেখা মিলছে না। সাগরে পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন সাইজের পাঙ্গাশ, কোরাল, লাক্কা ও পোয়া।
প্রতিদিনই আড়তগুলোতে সামুদ্রিক ১০-১৫ প্রজাতির মাছে সয়লাব থাকে। তুলনামূলক দামও অনেকটা কম যাচ্ছে। গাড়ি ছাড়লে আমরা অনেকটা সঠিক দাম পেতাম।
এ বিষয় কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, মাছের দাম কিছুটা কম। এখানে দুটি মৎস্য বন্দর সেহেতু মাছে সয়লাব থাকবে বাজার এটাই স্বাভাবিক। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতায় দামে ভাটা পরেছে মাছে।
জেবি