দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শেরপুর জেলা শহরের পৌরসভার গৌরীপুর মহল্লার বাসিন্দা মো. তোফাজ্জল হোসেনের বিবাহিত মেয়ে তাহমিনা ইয়াছমিনের (৩৪) ২০২২ সালের ৩১ জুলাই দায়ের করা মামলায় মঙ্গলবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালত মামলার আসামি ও ভুয়া নিকাহ্ রেজিস্টার মাওলানা রাজু আহাম্মেদকে শেরপুর জেলা কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
রাজু আহাম্মেদ শেরপুর পৌরসভার মোবারকপুর মহল্লার মো. আফতাব উদ্দিনের ছেলে।
আদালত ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর জেলা শহরের পৌরসভার গৌরীপুর মহল্লার বাসিন্দা মো. তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে সরকারি চাকরিজীবী তাহমিনা ইয়াছমিনের সঙ্গে একই মহল্লার মো. আব্দুল হাকিমের ছেলে আবুল হাসনাত মো. রানা বিগত ২০০৫ সালের ৩০ মে রেজি কাবিন মূলে উভয় পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে করেন। বিয়ের সময় স্বামী আবুল হাসনাত মো. রানাকে নগদ ৩ লাখ টাকাসহ আসবাবপত্র দেওয়া হয়।
এদিকে বিয়ের পর তাহমিনা ইয়াছমিন ও আবুল হাসনাত মো. রানা দম্পত্তির সংসারে এক পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করে। সরকারি চাকরিজীবী স্ত্রী তাহমিনা ইয়াছমিনের পিত্রালয় থেকে যৌতুকলোভী স্বামী আবুল হাসনাত মো. রানা পুনরায় বিগত ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বর ৫ লাখ টাকা এনে দেয়ার জন্য তার স্ত্রীকে চাপ প্রয়োগ করে। এ সময় স্ত্রী তাহমিনা ইয়াছমিন যৌতুকের টাকা এনে দিতে অপরাগত প্রকাশ করলে তাকে শারীরিক নির্যাতন, মারধর ও জখম করে পাষণ্ড স্বামী আবুল হাসনাত মো. রানা।
এ ঘটনায় নির্যাতিতা স্ত্রী তাহমিনা ইয়াছমিন নিরুপায় হয়ে শেরপুরের বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে যৌতুক লোভী স্বামী রানার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।
এতেও ক্ষান্ত থাকেনি ওই পাষণ্ড স্বামী হাসনাত মো. রানা। হীনস্বার্থ চরিতার্থ করতে সে পৌরসভার ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আসামি ভুয়া কাজী রাজু আহাম্মেদকে দিয়ে ভুয়া ও জাল তালাক নামা সৃজন করে স্ত্রী তাহমিনা ইয়াছমিনকে তালাক দেয়। তালাকনামা পেয়ে তাহমিনা ইয়াছমিনের বাবা মো. তোফাজ্জল হোসেন তৎকালীন জেলা রেজিস্টার মো. হেলাল উদ্দিনের কার্যালয়ে গিয়ে খোঁজখবর জানতে পারেন যে সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী ওই নিকাহ্ রেজিস্টারের নাম নেই এবং সে বৈধ নিকাহ্ রেজিস্টার হিসেবে গণ্য নয়।
পরে ভুক্তভোগী তাহমিনা ইয়াছমিন বিগত ২০২২ সালের ৩১ জুলাই ওই ভুয়া কাজী মাওলানা রাজু আহাম্মেদ ও তার স্বামী আবুল হাসনাত মো. রানাসহ অপরাপর ৭ জনকে আসামি করে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত এ মামলা সিআইডিকে তদন্তের জন্য নির্দেশ দেন।
পরে তদন্তে মাওলানা রাজু আহাম্মেদ ভূয়া কাজী হিসেবে সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দায়ের করেন। এরপর থেকেই রাজু আহাম্মেদ পলাতক থাকে এবং তার বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। পরে সে মঙ্গলবার আদালতে হাজির হয়ে তার আইনজীবীর মাধ্যমে জামিন চাইলে বিজ্ঞ আদালত তার জামিন নাকচ করে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
অপরদিকে ওই ভূয়া কাজী রাজু আহাম্মেদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি আদালতে একটি মামলায় গত ২৪ জুলাই তারিখে সহকারী জজ আদালতের বিচারক কামরুল হাসান তাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং সেইসঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন। এ মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পর ওই ভূয়া কাজী মাওলানা রাজু আহাম্মেদ পলাতক থাকেন বলে আদালত সূত্র জানিয়েছে।
জেবি