দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নেত্রকোনা-বারহাট্টা-২ আসনের আওয়ামী লীগ থেকে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী আলোচিত সাবেক ছাত্রনেতা, বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের আমলে কারাগারে নির্যাতনের শিকার জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, সাবেক পৌর মেয়র, সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, নেত্রকোনা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বর্তমান জেলা সহ-সভাপতি প্রশান্ত কুমার রায়।
তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ ভোটার ও কর্মীরা জানান, আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের লড়াকু সৈনিক ও ত্যাগী নেতা হিসেবে প্রশান্ত কুমার রায়ের বিকল্প নাই। আওয়ামী লীগের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং স্মার্ট বাংলাদেশ বির্নিমাণের ক্ষেত্রে প্রশান্ত কুমার রায়ই একমাত্র যোগ্য ব্যক্তি।
সাধারণ ভোটারা মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি তাদের অগাধ বিশ্বাস দুর্দিনের আওয়ামী লীগের নিবেদিত বিপ্লবী নেতা প্রশান্ত রায়কে মনোনয়ন দেবেন। যার কাছে নেত্রকোনার মাটি, মানুষ ও রাজনীতি নিরাপদ। নতুন মুখের গুঞ্জনে আলোচনায় মনোনয়ন যুদ্ধে যখন সাধারণ মানুষের আগ্রহ বেশি তখন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো গুরুত্বসহকারে প্রশান্ত কুমার রায়ের বিভিন্ন ধরনের তথ্য সংগ্রহের তৎপরতাও দেখা গেছে।
জানা যায়, প্রশান্ত কুমার রায় ১৯৮৫-১৯৮৯ সালে নেত্রকোনা জেলা ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৯ সালে স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনের জন্যে জীবনের প্রথম কারাবরণ করেন। ১৯৮৯-১৯৯১ সাল পর্যন্ত নেত্রকোনা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপি-জামায়াতবিরোধী আন্দোলনের জন্যে ১৯৯১ সালে আবারও কারাবরণ করেন। ১৯৯৫-২০০২ সাল পর্যন্ত নেত্রকোনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্রলীগের বিপ্লবী নেতৃত্বের কারণেই তখনই সারাদেশে তার নাম ছড়িয়ে পড়ে। তরুণদের কাছে হয়ে ওঠেন জনপ্রিয়। তৃতীয়বার কারাবরণ করেন ২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শাসনামলে।
চতুর্থবার কারাবরণ করেন ময়মনসিংহ সিনেমা হলে বোমা হামলার মিথ্যা ষড়যন্ত্র মামলায়। এক বছর ফাঁসির আসামিদের সঙ্গে কনডেম সেলে তাকে থাকতে হয়েছে। তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার ওপর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার খবর শুনার পর ময়মনসিংহ কারাগারে বন্দি অবস্থায় জেলখানায় প্রতিবাদ জানালে অমানষিক নির্যাতনের শিকার হন তিনি। এভাবে একের পর এক মামলার আসামি আর নির্যাতনের শিকার হন প্রশান্ত কুমার রায়।
বিএনপি-জামাত কর্তৃক যৌবনের বৃহৎ একটি সময় নির্যাতন, অন্যায় ও অত্যাচারের শিকার হয়েছেন তিনি। বারবার মৃত্যুমুখে থেকেও তিনি কখনও আপস করেননি। পিছপা হননি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, চেতনা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব থেকে। কোনো রাজনৈতিক অপশক্তির কাছেও কখনও মাথা নত করেননি তিনি। জামায়াত-শিবির ও বিএনপির অগণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিচালনার বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করে তাদের কাছে হয়েছেন একের পর এক রোষানলের শিকার। মামলার আসামি আর কারাগারে বন্দি জীবন যেন তার প্রতিটি মুহূর্ত তাড়া করেছে। তিনি নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দিয়ে রাজনীতির মাঠকে সবসময়ই গতিশীল করেছেন। দলীয় সকল কার্যক্রম বাস্তবায়নে এখনও নিবেদিত হয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। শত বাধাবিঘ্ন বারবার উপেক্ষা করে দলের দুঃসময়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে এগিয়ে নিতে কাজ করেছেন।
প্রশান্ত কুমার রায় নেত্রকোনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি থাকাকালীন সময়ে বিএনপি জামায়াত, কোনো দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করতে কখনও মাঠে নামতে সাহস দেখাতে পারতো না। নেত্রকোনা জেলা ছাত্রলীগে প্রশান্ত কুমার রায়ের পর এতো জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে এখনও নতুন কোনও নেতৃত্ব সৃষ্টি হয়নি বলে সাবেক অনেক ছাত্রনেতা অবলীলায় বলে থাকেন। ওয়ান ইলাভেনে ফখরুদ্দিন-মঈন উদ্দিন কর্তৃক তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার গ্রেপ্তারের পর তার মুক্তির দাবিতে আন্দোলন করেছেন। দুঃসময়ের ত্যাগী, সাবেক ছাত্রনেতা প্রশান্ত কুমার রায় ২০১১ সালের ১৭ই জানুয়ারি নেত্রকোনা সদর পৌরসভায় প্রত্যক্ষ ভোটে মেয়র নির্বাচিত হন।
নেত্রকোনা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন ও বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নেত্রকোনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে ৫ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। তারপর জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, রাজাকার, আলবদর যুদ্ধাপরাধী ও বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে সরব থেকেছেন তিনি। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে নেত্রকোনা জেলার বিভিন্ন উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার পক্ষে বিজয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে কাজ করেছেন শেখ হাসিনার পরীক্ষিত এ নেতা। নেত্রকোনার বিভিন্ন ইউনিয়ন, ওয়ার্ডসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন সম্পন্ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
নেত্রকোনা-বারহাট্টা-২ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রশান্ত কুমার রায় বলেন, আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে অমানবিক নিযার্তনের শিকার হয়েছি। একের পর এক মামলার আসামি হয়েছি। গ্রেপ্তারের পর নির্যাতন আমার জন্য নির্ধারিত ছিলো। ময়মনসিংহ কারাগারে আমাকে এক বছর ফাঁসির সেলে থাকতে হয়েছে। অন্যায় জুলুমের কাছে কখনও আপস করিনি। তৃণমূলের প্রান্তিক কৃষক, শ্রমিক মেহনতি মানুষের জন্য কাজ করেছি। আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন ও জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার আলোকে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে ও গণমানুষের অধিকার আদায়ে কথা বলার জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে নেত্রকোনা-বারহাট্টা-২ আসনে মনোনয়ন দিবেন বলে আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি।
জেবি