দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা থেকে মহানগরে উন্নীত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো নগরভবনে উপস্থিত হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) ১০টি প্রকল্পসহ দেশের ৬৪ জেলায় নির্মিত বিভিন্ন অবকাঠামো উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সেখানে যান তিনি।
এ দিকে একই মঞ্চে শামীম ওসমানসহ চার এমপি ও মেয়রের উপস্থিত হওয়ার মতো বিরল দৃশ্যের সাক্ষী হয়ে উজ্জীবিত হন উপস্থিত নেতা-কর্মীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় নগর ভবনে উপস্থিত হন শামীম ওসমান। পাঁচ মিনিট পর অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করলে তাকে স্বাগত জানান সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। একে অপরকে সালাম প্রদান করেন ও কুশল বিনিময় হয়। সামান্য আলাপচারিতা শেষে উভয়েই নিজ নিজ আসনে বসে পড়েন। এরপর দূর থেকে তাদের দুজনকে কয়েকবার কথা বলতে দেখা যায়।
শামীম ওসমান প্রবেশের আগেই নগরভবনে উপস্থিত হন জাতীয় পার্টির এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা। শামীম ওসমানের পরে হাজির হন তারই বড় ভাই এমপি সেলিম ওসমান। তিনি গিয়ে মেয়র আইভীর পাশে বসেন। সবার শেষে সভাস্থলে হাজির হন এমপি নজরুল ইসলাম বাবু।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে এমপি ও মেয়রসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা উদ্বোধন হওয়া নগর ভবন পরিদর্শন করেন ও মেয়র আইভীর কক্ষে আপ্যায়িত হন।
মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দল এখন ঐক্যবদ্ধভাবে পরিচালনা করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সেই কারণেই অতীতের বিরোধকে সামনে না এনে দলীয় স্বার্থে সবাই একত্রিত হয়েছে। তারই উদাহরণ হিসেবে মেয়র আইভীর দাওয়াতে এমপি শামীম ওসমানকে নগর ভবনের অনুষ্ঠানে দেখতে পেয়েছে নেতাকর্মীরা।’
জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১০ প্রকল্প উদ্বোধন হয়েছে আজ। এই অনুষ্ঠানে যুক্ত হতে মেয়রের দাওয়াতে শামীম ওসমানসহ চারজন এমপি চলে এসেছেন নগরভবনে। এটা নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য আনন্দের সংবাদ। আমরা দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জের জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে আন্তরিকতা দেখার অপেক্ষায় ছিলাম। প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানের কল্যাণে তাদের একত্রে দেখার সুযোগ হয়েছে আমাদের। এর ধারাবাহিকতা যেন অব্যাহত থাকে সেই প্রত্যাশা রাখি।’
এর আগে, নাসিক নির্বাচনের আগে মেয়র আইভীর মায়ের মৃত্যুর পর শামীম ওসমান গিয়েছিলেন আইভীর বাসায়। পরবর্তীতে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে দুজনে পাশাপাশি বসলেও তাদের কথা বলতে দেখা যায়নি। দীর্ঘ বিরতির পর দুজনের একত্রিত হওয়া এবং নগর ভবনে প্রথমবার শামীম ওসমানের উপস্থিতি আলোচনা তৈরি করেছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।
উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী জোহা পরিবার ও চুনকা পরিবারের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ দীর্ঘ দিনের পুরোনো। সেই বিরোধ এখনো জিইয়ে রেখে আলোচনায় থাকেন জোহা পরিবারের সন্তান শামীম ওসমান ও চুনকা পরিবারের মেয়ে মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। ২০১১ সালে প্রথম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হয়ে সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হেরে যান শামীম ওসমান।
জেবি