দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটা পৌরসভায় এক পরিবারে তিনজন প্রতিবন্ধী। একজন প্রতিবন্ধীর আয়ের ওপর নির্ভর করছে তিন প্রতিবন্ধীসহ ছয় জনের সংসার। একঘরে বসবাস করে বড় ভাইয়ের স্ত্রী দুই সন্তানসহ ছয়জন। যার ভেতরে তিনজন প্রতিবন্ধী।
ভগ্নিপতি শ্রবণ প্রতিবন্ধী মফিজ ব্যাপারী দেখভাল করছেন শারীরিক প্রতিবন্ধী জসিম উদ্দিন এবং মো. মোর্শেদাকে। তার আয়ের ওপরই নির্ভর করছে এই ছয়জনের ভরণপোষণ। অভাবের সংসার হলেও কখনও সাহায্যের জন্য কারো কাছে হাত পাতেননি পরিবারটি।
শত কষ্টের মধ্যে দিন কাটালেও তারা ভিক্ষাবৃত্তিকে ঘৃণা করেন। সরকারের দেওয়া প্রতিবন্ধী কার্ড আগেই বড়ভাই জসিম উদ্দিন পেয়েছিলেন। এ বছর তিনজনই এ সুবিধা পেয়ে খুশি তারা। কেউ যদি তাদের ব্যবসা করার জন্য সহযোগিতা করে তাহলে তারা ব্যবসা করে খেতে চায়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কুয়াকাটা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের খাজুরা গ্রামের জরাজীর্ণ একটি ঘরে বসবাস করে প্রতিবন্ধী তিনজন সহ মোট ছয়জন। জসিম উদ্দিনের স্ত্রী এবং ছেলে- মেয়ে রয়েছে। কিন্তু মফিজ ব্যাপারী এবং মোর্শেদা নিঃসন্তান। তবে জন্মগতভাবে কেউ প্রতিবন্ধী ছিলেন না। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনজনের শরীরে দেখা দেয় নানান ধরনের সমস্যা।
পরবর্তীতে বোন জামাই মফিজ ব্যাপারী শ্রবণ প্রতিবন্ধী, বোন মোর্সেদা এবং ভাই জসিম উদ্দিন শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়ে পড়ে। শারীরিক প্রতিবন্ধী দুজন অন্যের সহযোগিতা ছাড়া ঘরের এক মেঝে থেকে অন্য মেঝেতে চলাচল করতে পারে না। এলাকার লোকজন মনে করছেন তাদের বাড়িতে খারাপ কিছু থাকার কারণে এই অবস্থা হয়েছে তাদের। কারণ হিসেবে তারা বলেন, অন্য যারা বাড়িতে থাকেন না। তারা ভালো আছেন।
শারীরিক প্রতিবন্ধী বড় ভাই জসিম ব্যাপারী জানান, আমরা ১৪ ভাই-বোন ছিলাম। ১৩ নম্বরে আমি এবং ১৪ নম্বরে মোর্শেদা। এক সময় এই এলাকায় বেড়িবাঁধ না থাকায় নয় ভাইবোন বন্যায় মারা গেছে। পরে আমরা তিন ভাই দুই বোন জন্ম নিয়েছি। এক ভাই মারা গেছে এবং এক ভাই এক বোন অন্যত্র থাকে। কষ্ট করে বেঁচে থাকার চেষ্টা করেছি। আমার দুইটি সন্তান। ছেলেটা কুয়াকাটা বঙ্গবন্ধু স্কুলে সেভেনে পড়ে। আর মেয়েটা মাদরাসায় ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। লেখাপড়ায় মেধা ভালো। তাই শত কষ্টের মধ্যেও ওদের লেখাপড়া চালিয়ে নিচ্ছি।
জসিম উদ্দিনের ছোট বোন শারীরিক প্রতিবন্ধী মোসা. মোর্শেদা জানান, চলতে ফিরতে পারি না। সরকারের সাহায্য সহযোগিতা আর বাইরে কিছু কাজ করি তা দিয়ে চলি। কোনো ব্যক্তি ব্যবসা করার জন্য কিছু টাকা দিয়ে সহযোগিতা করলে তাহলে আমাদের চলতে ভালো হইতো।
জসিম ব্যাপারীর ভগ্নিপতি শ্রবণ প্রতিবন্ধী মফিজ ব্যাপারীকে ইশারার মাধ্যমে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার আয়ের টাকা দিয়ে ছয়জনের সংসার চলে। কাজ একদিন পেলে আবার দুইদিন পাই না। তিনি আরও জানান, আজ পনেরো দিন ধরে জ্বরে আক্রান্ত। তাই কাজ করতে যেতে পারিনি। কানে শুনতে পাই না তাই পরিচিত ছাড়া কেউ কাজ দেয় না।
কুয়াকাটা বঙ্গবন্ধু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.খলিলুর রহমান জানান, প্রতিবন্ধী জসিম উদ্দিন সম্পর্কে আমি জানি। কিন্তু তার সন্তান আমার বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী তা আমার জানা ছিল না। তিনি আরও জানান, আজ থেকে এই শিক্ষার্থীর লেখাপড়ার জন্য আমার বিদ্যালয়ে কোনো টাকা দিতে হবে না।
কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র আনোয়ার হোসেন হাওলাদার জানান, জসিম উদ্দিন ব্যাপারীর পরিবার আসলেই অসহায়। আমার পৌরসভায় যতো ধরনের ত্রাণ আসে আমি তাদের জন্য রাখি। তিনি আরও জানান, বাজেটে প্রতিবন্ধীদের জন্য বরাদ্দ রেখেছি। এছাড়াও ওই পরিবারের ঘর দেওয়ার ব্যাপারে আমি চেষ্টা করছি। পৌরভবনে প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা রুম নির্মাণের ব্যাবস্থা করছি।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, তিনজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ভাতা পান। আর সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিবন্ধীদের জন্য ঋণ কার্যক্রমের আওতায় তাদের আনার জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করব। এছাড়াও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রতিবন্ধীদের জন্য বরাদ্দ পাওয়া সুজোগ-সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে।
জেবি