দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারার ক্ষোভে লালমনিরহাট সদর উপজেলা খুনিয়াগাছ এসসি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেনকে পিটিয়েছে নুর ইসলাম নামে স্থানীয় এক ছাত্রলীগ নেতা। নুর ইসলাম উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। রোববার (৫ নভেম্বর) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।
চাকরিপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের জন্য অফিস সহকারী কাম হিসাবরক্ষক, অফিস সহায়ক, নিরাপত্তা কর্মী, আয়া ও পরিচ্ছন্নকর্মীসহ মোট ৫টি পদের জন্য পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞাপ্তি প্রকাশ করা হয়। ওই ৫টি পদের বিপরীতে ৪০ জন প্রার্থী আবেদন করেন। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির সঙ্গে যোগসাজশে গোপনে নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন করে প্রধান শিক্ষক মোশাররফ হোসেন যাদের চাকরি দেবেন তাদের নিয়ে রোববার (৫ নভেম্বর) বিকেলে বিদ্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষা শুরু করেন।
গোপনে নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে এমন খবর শুনে চাকরিপ্রত্যাশী ও এলাকাবাসী বিদ্যালয়ের চারদিকে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেন বিদ্যালয় থেকে বের হলে ওই ছাত্রলীগ নেতাসহ অন্যান্যরা তাকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। এসময় চাকরির জন্য তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে ওই টাকা ফেরত চাওয়া হয়। এসময় প্রধান শিক্ষক টাকা দিতে না চাওয়ায় তাকে মারধর করে শরীরের জামাকাপড় ছিড়ে ফেলে ওই ছাত্রলীগ নেতাসহ আরও কয়েকজন।
খবর পেয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মতিয়ার রহমান আসলে তার সামনে আবারও প্রধান শিক্ষককে পেটানো হয় এবং সভাপতিকেও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। এছাড়া এলাকার কয়েকজন নারী হাতে ঝাড়ু নিয়ে তাদের ওপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত এলাকাবাসী ও নারীরা ক্লাসে নিয়োগ পরীক্ষা দিতে আসা প্রার্থীদের ওপরেও চড়া হন। এসময় এলাকাবাসী বিক্ষোভ করতে থাকেন। পরে অবস্থা বেগতিক দেখে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মতিয়ার রহমান থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শর্তে একাধিক চাকরিপ্রত্যাশী জানান, এই নিয়োগ পরীক্ষা গত অক্টোবর মাসের ৩১ তারিখ হওয়ার কথা থাকলেও সেদিন পরীক্ষা স্থগিত করা হয় এবং পরবর্তীতে পরীক্ষার তারিখ জানিয়ে দেওয়া হবে বলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রার্থীদের জানায়। কিন্তু যাদের চাকরি দেওয়া হবে শুধুমাত্র তাদেরকে পরীক্ষার তারিখ জানিয়ে দিয়ে গোপনে পরীক্ষা নেওয়া শুরু করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে নিয়োগ পরীক্ষায় নেওয়ার জন্য খবর না পাওয়া প্রার্থীরাও পরীক্ষা দিতে আসেন। কিন্তু বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে ৫ জনকে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে প্রত্যেক প্রার্থীর কাছ থেকে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা করে নিয়েছেন শুধু তাদেরকে উত্তরপত্রসহ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেন এবং পুলিশের উপস্থিতিতে নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন করেন।
চাকরিপ্রত্যাশী ছাত্রলীগ নেতা নুর ইসলাম জানান, আমি একজন বীরমুক্তিযোদ্ধার সন্তান। আমি আমার চাকরির জন্য প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেনকে ৫ লাখ টাকা দিয়েছি। গত ৫ বছরেও তিনি আমার চাকরি নিশ্চিত করেননি। উল্টো তিনি আমার চাকরি নিশ্চিত হয়েছে বলে সান্ত্বনা দেন। কিন্তু পরে আমি জানতে পারি তারা গোপনে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেছেন। বিষয়টি জানতে পারলে চাকরিপ্রার্থী এলাকাবাসী ওই শিক্ষকের ওপর চড়াও হয় এবং তারা টাকা ফেরত চায়। টাকা দিতে না পারায় তাদের সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের ধাক্কাধাক্কি হয়। তিনি প্রধান শিক্ষককে মারধরের কথা অস্বীকার করেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেন জানান, বিদ্যালয়ের ক্লাস চলায় নিয়োগ পরীক্ষাটি বিকেলে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে যাওয়ার পথে এলাকার নুর ইসলামসহ ২০-২৫ জন আমার পথরোধ করে মারধর করে। পরে বিদ্যালয়ের সভাপতি অ্যাড. মতিয়ার রহমান এসে আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও তিনি জানান।
এইউ