দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে অপহরণকারী চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৪। গ্রেপ্তারকৃতরা র্যাবসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক পরিচয় ব্যাবহার করে বিয়ে, অপহরণ, টর্চারসহ নানা অপরাধ করে আসছিলেন দীর্ঘদিন ধরে। বুধবার (১ নভেশ্বর) বিকেলে ভালুকার স্কয়ার মাস্টারবাড়ি জামিরদিয়া মায়ের মসজিদ এলাকার পলোস্টোর দোকানের সামনে থেকে অপহরণকারী চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) দুপুরে ময়মনসিংহ র্যাব কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১৪ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান।
এ সময় গ্রেপ্তারকৃতদের হেফাজত থেকে অপহৃত তিনজন, একটি বিদেশি পিস্তল, ৫ রাউন্ড গুলি, র্যাবের দুটি ভুয়া আইডি কার্ড, ডিজিএফআইয়ের ভুয়া আইডি কার্ড, পাঁচটি বাটন মোবাইল, একটি সাদা রংয়ের হায়েস গাড়ি, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ছিনতাইকৃত ৬৬ হাজার ৫৮৪ টাকা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার মজিবুর রহমানের ছেলে রাসেল মাহবুবুল (৪৩), একই উপজেলার শাহাদাত হোসেনের ছেলে মুছা শেখ (২৪), মুন্সিগঞ্জ জেলার মৃত আলী শেখের ছেলে মনির হোসেন (৪০), ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা থানার সবুজ বিশ্বাস (২৪)।
উদ্ধারকৃত ভুক্তভোগীরা হলেন, জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার দুলাল মিয়ার ছেলে আসাদুজ্জামান আসাদ (২৮), একই জেলার ত্রিশাল উপজেলার মৃত কোরবান আলীর ছেলে হাফিজুল ইসলাম (৩৪) এবং টাঙ্গাইল জেলার ভুঞাপুর উপজেলার মৃত বানিছ তারুকদারের ছেলে রফিকুল তালুকদার (৩৬)।
র্যাব-১৪ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান বলেন, টাঙ্গাইল জেলার ভুঞাপুর উপজেলার রফিকুল ইসলাম পেশায় একজন মাংস ব্যবসায়ী। তিনি গত বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ভুঞাপুর থানার গোবিন্দাস বাজারে নিজ দোকানে গরুর মাংস বিক্রি করছিলেন। হঠাৎ সাদা রংয়ের হায়েস গাড়ি তার দোকানের সামনে এসে দাঁড়ায়। এ সময় গাড়ি থেকে ৬-৭ জন লোক নেমে প্রথমে নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে চোরাই মাংস বিক্রি করছে বলে রফিকুল ইসলামকে গাড়িতে উঠতে বলেন। তাদের সঙ্গে যেতে না চাইলে দোকানের ক্যাশ বাক্স থেকে ৪০ হাজার টাকা নিয়ে রফিকুল ইসলামকে টেনে হিঁচড়ে গাড়িতে তুলেন। এ সময় গ্রেপ্তারকৃত রাসেল মাহবুবুল নিজেকে র্যাবের মেজর পরিচয় দেয়। তাকে গাড়িতে তুলে বেধড়ক পিটুনী দিয়ে ৬ লাখ টাকা দাবি করে।
তিনি আরও বলেন, সেখান থেকে ফেরার পথে সকাল ১১টার দিকে জেলার মুক্তাগাছার নিমুরিয়া হাইস্কুলের সামনে এসে রাস্তায় দাঁড়িয়ে বাংলালিংক কোম্পানির সেলস্ ম্যান আসাদুজ্জামান আসাদকে মোটরসাইকেল থামানোর জন্য সিগন্যাল দেয়, তখন আসাদুজ্জামান মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়ায়। মোটরসাইকেল দাঁড় করাতেই গাড়িতে থাকা আসামিরা র্যাব এবং ডিজিএফআইয়ের আইডি কার্ড দেখিয়ে আসাদকে গাড়িতে তোলে এবং একজন অপহরণকারী মোটরসাইকেলটি চালিয়ে অন্যত্র নিয়ে যায়।
আসাদকে গাড়ির সিটের নিচে মাথা রেখে গাছের মোটা ডাল দিয়ে সারা শরীর ও পায়ে পেটানো হয়। তার কাছে মুক্তিপণ হিসেবে চাওয়া হয় এক লাখ টাকা।
অধিনায়ক মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান আরও বলেন, একই দিন বেলা দুইটার দিকে সেখান থেকে জেলার ত্রিশাল উপজেলার বাগান গ্রামের রাঙ্গামাটিয়ায় ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কে দাঁড়িয়ে মুদি দোকানের কর্মচারী হাফিজুল ইসলামকে ডাক দেয়। তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে হাফিজুল ইসলাম কাছে আসলে রাসেল মাহবুবুল আবারও নিজেকে র্যাবের মেজর পরিচয় দিয়ে হাফিজুলকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে হত্যার হুমকি দিয়ে ৪০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে ঢাকার দিকে রওয়ানা দেয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওইদিন এই চক্রের চার সদস্যকে ভালুকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা বিষয়টি স্বীকার করেছে। তাদের সঙ্গে আরও ছয়জন সহযোগী রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে র্যাব কাজ করছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রাসেল র্যাবের মেজর পরিচয় দিয়ে তিনটি বিয়ে এবং একাধিক অপহরণের ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তার নামে চারটি মামলা রয়েছে। মনিরের নামে একটি মামলা রয়েছে। বাকিদের বিষয়ে আরও খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে কেঁদে আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, র্যাবের মেজর পরিচয় দিয়ে রাসেল আমার কাছে ছয় লাখ টাকা দাবি করে। তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গাড়ির সিটের নিচে আমার মাথা রেখে কালো কাপড় দিয়ে মুখে বেঁধে কয়েক ঘণ্টা নির্যাতন করে। তাদের কাছে প্রাণে বাঁচার আকুতি করেও কোন রেহাই পায়নি। র্যাব বিষয়টি বুঝতে পেরে আমাদের উদ্ধার করায় প্রাণে বেঁচে রয়েছি। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
জেবি