দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নেত্রকোনা জেলা শিশু একাডেমির কর্মকর্তা মীর বাবলুর রহমান কর্তৃক তার কার্যালয়ের চিত্রাঙ্কন প্রশিক্ষক শুভ্র সরকারকে মারধরের প্রতিবাদে ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে।
বুধবার (১৮ অক্টোবর) দুপুর একটার দিকে শহরের মোক্তারপাড়া এলাকায় পৌরসভা কার্যালয়ের সামনের সড়কে জেলার সকল সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের ব্যানারে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
জেলা উদীচীর সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে ও নেত্রকোনা সাহিত্য সমাজের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল্লাহ এমরানের পরিচালনায় ঘণ্টাব্যাপী কর্মসূচি চলাকালে বক্তব্য দেন, জেলা উদীচীর সভাপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান খান, সহসভাপতি মাসুদ খান, সুজন জেলা কমিটির সভাপতি শ্যামলেন্দু পাল, সঙ্গীত শিল্পী অসিত কুমার ঘোষ, জেলা সিপিবির সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য কোহিনুর বেগম, প্রত্যাশা সাহিত্য গোষ্ঠীর সভাপতি দেবশীষ সরকার, নারী প্রগতি সংঘের কেন্দ্র ব্যবস্থাপক মৃণাল চক্রবর্তী, কবি মো. ইসহাক, কবি নীলম বিশ্বাস, নৃত্য প্রশিক্ষক তমা রায়, মহুয়া থ্রিয়েটারের সভাপতি আশিস দেবনাথসহ নেতৃবৃন্দরা।
শুভ্র সরকার গত ছয় বছর ধরে জেলা শিশু একাডেমিতে চিত্রাঙ্কন প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত। প্রতি সপ্তাহের বুধ ও বৃহস্পতিবার তিনি শিশুদের ছবি আঁকানো শেখান। মাসখানেক আগে বাবার মৃত্যু ও জ্বরের কারণে তিনি শিশু একাডেমিতে যেতে পারেননি। বিষয়টি তিনি শিশু একাডেমির কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে জানিয়েছিলেন। সম্প্রতি শুভ্র সরকারের জায়গায় পছন্দের একজনকে প্রশিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পাঁয়তারা করার অভিযোগ ওঠে মীর বাবলুরের বিরুদ্ধে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে শেখ রাসেলের জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে শিশু একাডেমিতে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। সেখানে বিচারক হিসেবে অংশ নেন শুভ্র সরকার। সন্ধ্যার কিছুক্ষণ আগে কাজ শেষে কার্যালয় থেকে বের হলে মীর বাবুলুর তাকে নিজ কক্ষে ডেকে এনে একাডেমিতে আসতে নিষেধ করেন। শুভ্র এ বিষয়ে জানতে চাইলে মীর বাবলুর তাকে বেধরক মারধর করেন। পরে লোকজন তাকে উদ্ধার করে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি ওই হাসাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে জনগণের টেক্সের বেতন নিয়ে মীর বাবলুর রহমান এভাবে প্রশিক্ষককে মারধর করতে পারেন না। দুর্নীতিবাজ ওই কর্মকর্তাকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নেত্রকোনা থেকে প্রত্যাহার না করা হলে জেলার সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা কঠোর আন্দোলনে যাবে। তাকে চাকরিচ্যুত করাসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
জেবি