দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে চলছে শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি। মন্দিরে মন্দিরে চলছে প্রতিমা তৈরি। শেষে সাজ সজ্জার কাজ। উৎসব আয়োজনে ব্যস্ত সময় পার করছেন সনাতনি হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। পূজার নিরাপত্তায় নানা পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন।
শুক্রবার মহা ষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে সারা দেশে শুরু হতে যাচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। তাই শেষ মুহূর্তের প্রস্ততিতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে রাঙামাটির সনাতনী হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষ। প্রতিমা তৈরি শেষে চলছে সাজ সজ্জার কাজ। উৎসব আয়োজনে ব্যস্ত সময় পার করছেন সনাতনী ধর্মাবলম্বীরা।
এইবার জেলার ১০টি উপজেলায় ৪৩টি মন্দিরে সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
দুর্গোৎসবের সকল প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। মন্দির প্রাঙনের সাজ-সজ্জার কাজ হরদম চলছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধে প্রশাসন আগে প্রস্তুতি শেষ করে নিয়েছে। বাড়ানো হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন থাকবে। বড় পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা বজায় রাখতে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা।
এদিকে নিরাপদে দুর্গোৎসব পালনের লক্ষে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপার একাধিক বৈঠক করেছেন। পূজার নিরাপত্তায় সব ধরনের প্রস্তুতির কথা জানালেন পুলিশ সুপার।
এদিকে, রাঙামাটি শহরের আসামবস্তী শীতলা মন্দিরের প্রতিমাশিল্পী সঞ্জীব বড়ুয়া বলেন, সনাতন সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপুজা। দুর্গোৎসব উপলক্ষে আমরা বিভিন্ন পূজামণ্ডপে প্রতিমা তৈরি করে থাকি। বর্তমানে এখানে শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জার কাজ চলছে।
শহরের কাঠালতলী সর্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গা মাতৃমন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক পার্থ সেন বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে আমরা যাবতীয় প্রস্ততি সম্পন্ন করেছি। এবারের শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রশাসন থেকেও নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট স্বেচ্ছাসেবক কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এবারের পূজা অত্যন্ত উৎবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।
রাঙামাটি পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পঞ্চানন ভট্টচার্য বলেন, রাঙামাটিতে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ষাড়ম্বরে উৎসবমুখর পরিবেশে শারদ উৎসব অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, পাহাড়ে শারদীয় দুর্গাপূজা পাহাড়ি-বাঙালির এক মিলনমেলায় পরিণত হয়ে থাকে। এদিকে, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ রাঙামাটি জেলা শাখার সভাপতি অমলেন্দু হাওলাদার বলেন, অত্যন্ত আড়ম্বর আয়োজনের মধ্যে রাঙামাটিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। আশা করছি এইবারের উৎসব আনন্দের মধ্যে উপভোগ করা যাবে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন আমাদেরকে যথেষ্ট সহযোগিতা করছে।
রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার মীর আবু তৌহিদ বলেন, রাঙামাটি জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রত্যেকটি পূজামণ্ডপকে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হবে। এইবারের পূজায় রাঙামাটিতে কোনো ঝুঁকিপূর্ণ মন্দির নেই। পুলিশ সুপার বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আমরা জেলা পুলিশ রাঙামাটির সকল মন্দিরের নেতৃবৃন্দের সাথেও বৈঠক করেছি। পুরো পূজামণ্ডপ নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হবে।
এবার রাঙামাটির দুর্গাপূজা সব জাতিগোষ্টীর মিলনমেলায় পরিণত হবে বলে প্রত্যাশা আয়োজকদের।
জেবি