দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জামালপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নে ভূমিদস্যু শাহীন, শাওন গং, দেহ ব্যবসায়ী কমলা ও তার স্বামী আখেরীর অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।
সোমবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে কেন্দুয়া বাজার এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ২০১৭ সালের দিকে কেন্দুয়া বাজারের দক্ষিণে সরকারি খাস জমিতে মৃত অন্ধ রবিজল ভিক্ষুকের বসতভিটা থাকা অবস্থায় গোপনে অদৃশ্য শক্তির মাধ্যমে লিজ নিয়ে শাওন খান তাদের আত্মীয় কমলা বেগম ও আখেরীর কাছে ভাড়া দেয়। সেই থেকে কমলার স্বামী নিজেই তার বউয়ের অসামাজিক কার্যকলাপের দালাল ও পাহারাদার হয়ে নিয়মিত দেহ ব্যবসা, মাদক এবং জুয়ার আসর বসিয়ে এলাকার ছাত্র ও যুব সমাজকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
এ ঘটনায় এলাকাবাসী বিভিন্ন সময় প্রতিবাদ করলে তাদের মামলা, হামলার হুমকি দিতো। এসব অপকর্মের মাধ্যমে তারা নিজ এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকার ছাত্র ও যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
এমন অসামাজিক কার্যকলাপ করার সময় ১২ অক্টোবর রাত ১১ টার দিকে ৩ জনকে আটক করে পুলিশে দেয় এলাকাবাসী। আটককৃতরা ঝাউগড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা।
আটককৃতরা অসামাজিক কার্যকলাপ বিষয়ে পুলিশের কাছে জবানবন্দিও দেয়। এ কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ ও আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে বিশেষভাবে অনুরোধ করে। পুলিশ মৌখিকভাবে আশ্বাস দিলেও আসামিরা পরের দিনই জামিনে মুক্ত হয়।
জামিনে মুক্ত হয়েই আসামিরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তারা এলাকাবাসীকে বিভিন্ন হুমকি ধমকিসহ গালিগালাজ করে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ভূমিদস্যু শাহীন, শাওন গংদের নামে এর আগেও বিভিন্ন জায়গায় শীতল রবিদাস, মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলু ব্যাংকার, কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি কলোনি দখলসহ জমি দখলের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। ওই জমিটিও সরকারি খাস জমি যেটির মধ্যে আত্মীয় কমলা ও আখেরীকে ভাড়া দিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপের মাধ্যমে কেন্দুয়া সমাজের ছাত্র ও যুবকদের চরম ক্ষতিসাধন করছে।
এলাকাবাসীর দাবি ও অভিযোগ, এসব অসামাজিক লোকেরা এলাকায় থাকলে আমাদের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা খারাপ দিকে ধাবিত হবে। মাদক, জুয়া ও দেহব্যবসা প্রতিটা সমাজেই অভিশাপ এবং অন্যায়। এরা প্রতিনিয়ত কেন্দুয়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের লোকের সমাগম ঘটিয়ে একটা অরাজক ও অসামাজিক কার্যকলাপের মাধ্যমে আমাদের ইউনিয়নের সুনাম বিনষ্টসহ কেন্দুয়া গ্রামের চরম ক্ষতিসাধন করছে। তাই এইসব দুস্কৃতিকারীদের এই সমাজ ও সরকারি খাস জায়গা থেকে অতি দ্রুত উচ্ছেদ করতে স্থানীয় প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার রাকিবুল ইসলাম মিলন, কেন্দুয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মোরাদ হোসেন তরফদার,আমেনা বেগম,ভাণু বেগম।
কেন্দুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম খান সোহেল বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন পরিবারটিকে অন্যত্র সরে যেতে বলেছেন। কেন্দুয়া ইউনিয়নে কোনো প্রকার অসামাজিক কার্যকলাপ করতে দেওয়া হবে না। সুন্দর সমাজ গঠনে আমরা বদ্ধপরিকর।
জেবি