দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে রোপা আমন ধানের ক্ষেতে ব্যাপকভাবে বেড়েছে মাজরা ও লিফ ফোল্ডার পোকার আক্রমণ। ফলে কয়েকদিন পরপর কিটনাশক প্রয়োগ করেও পোকা দমন সম্ভব হচ্ছে না। আর পোকা দমন বা নিধনে কৃষি অফিসের কোনো সহায়তা পাচ্ছেন না বলে কৃষকরা অভিযোগ করছেন।
উপজেলার আমদহ গ্রামের কৃষক আমীর হামজা বলেন, চার বিঘা জমিতে উচ্চ ফলনশীল ব্রি—ধান ৮৭ ও ৪৯ জাতের ধান রোপণ করেছি। ধানের গাছও ভালো হয়েছে। কিন্তু পোকার আক্রমণে ধান গাছের মূল কাণ্ড শুকিয়ে যাচ্ছে এবং পাতা খেয়ে ফেলছে। স্থানীয় দোকান থেকে কিটনাশক কিনে ক্ষেতে স্প্রে করেও কোনো উপকার হয়নি।
পিয়ারপুর, হোগলবাড়ী, মরিচা রিফাইতপুরের কৃষকদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, এ বিষয়ে ইউনিয়নভিত্তিক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের দেখা মিলছে না মাঠে। বিভিন্ন কিটনাশক কোম্পানির লোকজন এসে যতটুকু পরামর্শ দিচ্ছেন শুধুমাত্র সেভাবেই ধানের জমিতে পরিচর্যা করছি। পোকার আক্রমণ থেকে রেহাই না পেলে ধানে ফলন কম হবে এবং লোকসান হবে আমন ধান আবাদে। উপজেলার সোনাইকুন্ডী, টলটলি পাড়া, বালিরদিয়ার ও সিরাজনগরসহ কয়েকটি গ্রামের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় সব জমির আমন ধানের গাছে ব্যাপকভাবে মাজরা ও লিফ ফোন্ডার বা পাতা মরা (লেদা) পোকাসহ পাতা খাদক পোকা আক্রমণ করেছে। মাজরা পোকার আক্রমণের কারণে অধিকাংশ ধানগাছের পাতা মরে হলুদ রং ধারণ করেছে। কোনো কোনো জমির ধানগাছ প্রায় পাতাশূন্য হয়ে মরে যাচ্ছে।
আল্লারদর্গা তাজপুর গ্রামের কৃষক হানিফ আলী বলেন, এ বছর আমি প্রায় দেড় বিঘা জমিতে বিনা-৭ জাতের আমন ধান চাষ করেছি। আমারসহ গ্রামের অধিকাংশ কৃষকের জমিতে মাজরা পোকা ও পাতা খাদক লেদা পোকায় আক্রমণ করেছে। পোকা দমনের জন্য প্রায় সব কৃষক দানাদার, পাউডার ও তরলজাতীয় কীটনাশক ব্যবহার করছেন কিন্তু কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না পোকার আক্রমণ। মাজরার পাশাপাশি ধানগাছে ঘাসফড়িং পোকারও আক্রমণ দেখা যাচ্ছে।
কৃষক ওসমান গনি ও সাবু মণ্ডল জানান, এর আগে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাঝে মধ্যে দেখা গেলেও ইদানিং তাদের আর খোঁজ নেই। পোকা দমন করা না গেলে ধানের ফলনে বড় ধরনের প্রভাব ওপর পড়বে।
কৃষি অফিস সূত্র জানায়, এ মৌসুমে দৌলতপুর উপজেলার লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী প্রায় ১৯ হাজার ৯৮০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের চাষ হয়েছে। এতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭০ হাজার ৫৯২ মেট্রিক টন। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত তাপদাহের কারণে ধানের ক্ষতি হয়েছে, তবে এখন তাপমাত্রা কিছুটা কম। যেসব এলাকায় ধান ক্ষেতে মাজরা পোকার আক্রমণের কথা বলা হচ্ছে, সেই এলাকায় আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছে। উপ-সহকারী কৃষি অফিসারের ব্যাপারে আমাকে কোনো কৃষক জানায়নি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেবি