দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শরতের নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা যখন ভেসে বেড়ায় আর খাল বিল জলাভূমিতে পানি কমতে শুরু করে তখনি খাদ্যের সন্ধানে দলে দলে আসতে থাকে দেশি প্রজাতির পাখি। মাছ, শামুক, পোকা-মাকড়, জলজ উদ্ভিদ ও গুল্ম এসবই পাখির প্রধান খাবার।
শেরপুরের নকলা উপজেলা নদী, খাল, বিলসহ জলাভূমি সমৃদ্ধ অঞ্চল বিধায় শরতের শুরুতেই এখানে দেশি ও কিছুসংখ্যক পরিযায়ী প্রজাতির পাখির আগমন ঘটে। এই সুযোগে পাখি শিকারিরা তৎপর হয়ে উঠে।
নকলা উপজেলার উরফা ইউনিয়নের সিংগা বিল, সুতিবিল, মাজাকান্দা বিল ও চিকনা বিল, গৌরদ্বার ইউনিয়নের তেঘড়িয়া বিল, পৌর এলাকার কুরশা বিল এবং পাঠাকাটা ইউনিয়নের বড়োডুবি বিল এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে এসব বিলে দেশি প্রজাতির নানা ধরনের বক, পানকৌড়ি, কালিম ও ঘুঘুসহ অসংখ্য পাখি ঝাক বেঁধে খাদ্যের সন্ধানে চড়ে বেড়াচ্ছে।
কিন্ত এরই মধ্যে এক শ্রেণির পাখি শিকারির দল পাখি ধরার কাজে নেমে পড়েছে। এরা বনে বাদারে জলাভূমিতে ফাঁদ পেতে তাদের পোষা পাখিদের দিয়ে ডেকে বুনো পাখিদের ফাঁদে ফেলে ধরে। পরে এসব পাখি গ্রামগঞ্জের হাট-বাজারে বিক্রি করে। তবে আশার কথা জেলার জীববৈচিত্র রক্ষাকারী সংগঠন শেরপুর বার্ড কনজাভেশন সোসাইটি, প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব, জন উদ্যোগ, সবুজ বাংলা প্রভৃতি স্বেচ্ছাসেবী সমিতি বিভিন্ন গ্রামগঞ্জ জলাভূমি ও চরাঞ্চলে ঘুরে পশুপাখি ধরা ও নিধন বন্ধ সেইসঙ্গে বনভূমি বক্ষায় জনমত সৃষ্টির জন্য নিরন্তর কাজ করে যচ্ছে।
তবে এ ব্যাপারে নকলা উপজেলার বার্ড কনজারভেশন সোসাইটির সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম জাকারিয়া পবন জানান, সংগঠণের সদস্য হিসাবে তিনি ইতোমধ্যে জনমত সৃষ্টি করে ও আইনের ভয় দেখিয়ে পাখি শিকারিদের হাত থেকে ৬০-৭০টি বক, ৮-৯টি পানকৌড়ি, ১৮টি ঘুঘু, ২টি কালিম, ১টি ডাহুক উদ্ধার করে মুক্ত আকাশে ছেড়ে দিতে পেরেছেন।
তবে তার দুঃখ বানেশ্বরদী ইউনিয়নের আলিনা পাড়া গ্রামবাসীরা এ ব্যাপারে চরম বিরোধিতা করে আসছে। তারাই সেখানকার মরাকান্দা বিলে অবাধে বকসহ নানাপ্রজাতির পাখি শিকার করে থাকে।
এ প্রসঙ্গে নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিয়া উম্মুল বানিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অচিরেই মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
অপরদিকে এ বিষয়ে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মন্জুরুল ইসলাম জানায়, এ বিষয়ে আমরা তৎপর আছি। ইতোপূর্বে পাখি শিকারিদের ধরে তাদের কাছ থেকে পাখি অবমুক্ত আমরা করেছি। তবে এ পাখি শিকার রোধ করতে মোবাইল কোর্টের চিন্তা ভাবনা আমাদেরও রয়েছে।
জেবি