দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার গারুরিয়া ইউনিয়নের বালীগ্রামে ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল চালক ফয়সাল আহমেদ প্রিন্স হত্যা মামলার রায়ে এক আসামিকে ফাঁসির দণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (৯ অক্টোবর) সকাল ১১টায় বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক কেএম রাশেদুজ্জামান রাজা আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় দেন।
রায়ে প্রধান আসামি রাসেল হাওলাদারকে ফাঁসির দণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও একমাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে মামলার অফর তিন আসামি মো. বেল্লাল, মো. শাহিন ও মো. ইদ্রিস হাওলাদারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এ মামলার পলাতক আসামি সৈয়দ মৃধাকে বেকসুর খালাশ দিয়েছেন আদালত।
মামলার অভিযোগে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৫ মার্চ রাতে আসামিরা ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক ফয়সাল আহমেদ প্রিন্সের কাছে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দেয়ায় আসামিরা ওই রাতে বালীগ্রাম এলাকায় তাকে গলায় ফাঁস দিয়ে এবং জিআই পাইপ দিয়ে পিটিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা নুরুল ইসলাম হাওলাদার বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করে বাকেরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ২০২০ সালের ৩১ জুলাই বাকেরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফয়েজ উদ্দিন মৃধা পাঁচজনকে অভিযুক্ত আদালতে এ মামলার অভিযোগপত্র জমা দেন।
পরে জেলা জজ আদালতে ২৮ জনের মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রধান আসামি রাসেলকে ফাঁসি এবং অপর তিন আসামি বেল্লাল, শাহিন ও ইদ্রিসকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত ফাঁসি কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন নিহত প্রিন্সের বাবা নুরুল ইসলাম হাওলাদার।
এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ কমবে বলে জানিয়েছেন সরকারপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ওবায়দুল্লাহ সাজু। এদিকে কোন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীর সাক্ষ্য ছাড়াই অন্যায়ভাবে আসামিদের সাজা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন ফাঁসি ও যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তদের স্বজনরা।
আদালতের রায়ে অসন্তষ্ট না হলেও এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চাদালতে আপিল করার কথা বরেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আতিকুর রহমান রিয়াজ। রায় ঘোঘণার পর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠান করে পুলিশ। এ উপলক্ষ্যে আদালতপাড়ায়ও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
জেবি