দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সাতক্ষীরায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মা মনসা ও বিশ্বকর্মা পূজা আনুষ্ঠানিকতার সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর এই পূজার সঙ্গেই ৪০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলার অনানুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়ে গেছে।
সোমবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শত শত পূণ্যার্থী সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোলের ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর পাড়ের বটতলায় মা মনসা ও বিশ্বকর্মা পূজায় অংশ নেন। সেখানে প্রবীণদের অংশগ্রহণে ভাসানগানের পালা অনুষ্ঠিত হয়। ভাসান গান ও লখিন্দরের পালা দেখতে ভিড় জমে বিভিন্ন বয়সী মানুষদের। সেখানেই হিন্দু নরনারীরা বটতলায় পূজা দেন। ভক্তরা অন্তরে লালিত মানতের প্রকাশ ঘটান। মনোবাসনা পূরণ করতে তারা যুক্ত হন প্রার্থনায়।
এ পূজাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরের মতো এবারও সোমবার (৩ আশ্বিন) সকাল থেকে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন পুরোহিত পরিতোষ চক্রবর্তী।
সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক সমরেশ কুমার দাশ জানান, দিনব্যাপী এ পূজার আয়োজন ও উৎসবের আবহ অনেক বেশি সর্বজনীন করেছে। সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।
এদিকে প্রতি বছরের শেষ ভাদ্রে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও এবার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তিথি নক্ষত্রের ক্রমানুসারে পঞ্জিকার ক্রমানুসারে ভাদ্রের শেষে রন্ধনকর্মের প্রসাদ প্রস্তুত করেন এবং সোমবার তা বিতরণ করেন। একই সঙ্গে প্রায় ৪০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুরের মেলাও ১৪৩০ সালের বাংলাদেশের দিনপঞ্জিকা অনুসারে একই সময়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন কর্তৃক নির্ধারিত আগামী ৫ আশ্বিন শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে শুরু হবে।
প্রসঙ্গত, ইংরেজি ২০০২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর জঙ্গিদের ভয়াবহ বোমা হামলায় তিনজনের প্রাণহানি ঘটে। তারপর বন্ধ হয়ে যায় গুড়পুকুর মেলা। সঙ্গে মা মনসা ও বিশ্বকর্মা পূজাও সর্বজনীন উৎসবের ঐতিহ্যে ব্যাঘাত ঘটে এবং প্রাণহীন হয়ে পড়ে পূজা ও পূজার উৎসব।
স্থানীয় মুদি দোকানি আবু সাঈদ বলেন, সকাল থেকে বিভিন্ন দোকানের পসরা ও সব বয়সী মানুষের আগমনে মুখরিত গুড়পুকুর প্রাঙ্গণ ও মনসাতলা তথা বটতলা ছিল সকাল থেকে সন্ধ্যা জমজমাট। পূন্যার্থী ডা. সুব্রত ঘোষ বলেন, আগের সেই প্রাণ এখন আর দেখা যায় না। একটি নৃশংসতা গোটা আয়োজন ও উৎসবকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। প্রশাসনিক ও সনাতনী সংগঠনের আয়োজকদের আরও সক্রিয়তা উৎসব ও আয়োজনের প্রাণ সৃষ্টি করতে পারে।
এইউ