দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নরসিংদীতে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্বাচিত হয়েছে ফারুক আজিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসম্মত শিক্ষা প্রদান, স্থানীয় আর্থিক অনুদানে স্কুলের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে নিয়মানুবর্তিতা, ডিজিটাল হাজিরাসহ স্কুলটিতে আধুনিক সুবিধা নিশ্চিত করায়সহ নানা ক্যাটাগরিতে স্কুলটিকে শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত করা হয়।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় নরসিংদী সদর উপজেলা শিক্ষা অফিস জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৩ ক্যাটাগরিতে ফারুক আজিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত করা হয়।
নিয়মিত শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের লেপটপসহ ডিজিটাল জিনিসপত্র দিয়ে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ধনি-গরিবসহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষের সন্তানকে শিক্ষিত করার লক্ষ্যে নরসিংদী সদর উপজেলায় ১৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করে সরকার।
একসময় টিনশেড বিল্ডিংএ প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম চললেও বর্তমানে প্রতিটা প্রাইমারি স্কুলে অধুনিক ভবন নির্মাণ করছে সরকার। কিন্ত নরসিংদী সদর উপজেলায় শীলমান্দি ইউনিয়নের উত্তর বাগহাটা এলাকায় সুবিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য নির্মিত ফারুক আজিজ স্কুলটি জড়াজীর্ণ অবস্থায় চলছে।
সরকার স্কুলটিতে নতুন ভবন তৈরির কাজ হাতে নেয়। ফলে স্কুলের পুরোনো টিনসেড ভবনটি ভেঙে নতুন ভবন তৈরিতে দুই থেকে তিন বছর সময় লেগে যাবে। ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠ দানে বিঘ্ন ঘটবে। ঝড়ে পড়তে পারে অসংখ্য শিক্ষার্থী। এ অবস্থা উত্তোরণে আটঘাট বেঁধে নেমে পড়েন স্কুলের প্রধান শিক্ষক জয়শ্রী সাহা।
পরে স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, স্কুলের অবিভাক ও ফারুক আজিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা এবং জমিদাতা মোমেনা আজিজের পরিবারের সদস্যদের আর্থিক অনুদানের প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১২০ ফুট লম্বা ৫ কক্ষবিশিষ্ট একটি নতুন স্কুলভবন নির্মাণ করা হয়। ছাত্র-ছাত্রীদের সুবিধার্থে স্কুলটিতে দুটি আধুনিক ওয়াশরুম নির্মাণ করা হয়। স্কুল কমিটির সদস্য স্বপন রায়ের তিন লাখ টাকা আর্থিক অনুদানে পাকা শহীদ মিনার, বঙ্গবন্ধু পুষ্প কানন ও অজুখানা নির্মাণ করা হয়।
শুধু তাই নয় ছাত্রছাত্রীরা যেন ক্লাস করতে পারে সেই লক্ষ্যে জমিদাতা পরিবার স্কুল রুমে ১৫টি ফ্যান, ২০টি লাইট, দুটি টেবিল, পাঁচটি অক্সিজেন সিলিন্ডার প্রদান করেন।
মাস্কো গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সবুর সাহেবের আর্থিক অনুদানে বিদ্যালয়ে ওয়ারিংয়ের কাজ, সেনিটেশন ব্যবস্থা, তিনজন প্যারা শিক্ষকের সম্মানি ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীর সম্মানি প্রদান করা হয়।
জমিদাতা পরিবারসহ স্থানীয় মানুষদের অনুপ্রাণিত করে স্কুলের প্রধান শিক্ষক জয়শ্রী সাহা স্কুলটিকে আধুনিক একটি রুপ প্রদান করেন। ফলে এলাকাবাসী ও অভিবাবকরে কাছে প্রশংসা কুড়িয়েছেন প্রধান শিক্ষক। এই স্কুলটি বর্তমানে সদর উপজেলার মডেল একটি সরকারি স্কুল।
সদর উপজেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়শ্রী সাহা বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে স্মার্ট শিক্ষার্থী চাই। এই লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
তিনি বলেন,আমি যখন যোগদান করি তখন স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল ৯০ জন। এখন স্কুলটিতে প্রায় চার শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। এ সময় এই এলাকার মানুষ তাদের সন্তানদের কিন্ডার গার্টেন স্কুলে পড়ানোর জন্য শহরের স্কুলে নিয়ে যেতেন। এমনকি সন্তানের লেখাপড়ার কথা ভেবে গ্রাম ছেড়ে দিয়েছেন। এখন আর মানুষ গ্রাম ছাড়েন না। এলাকার ধনী বড়লোক ও শিল্পপতি পরিবারের সন্তানরা আমার সরকারি প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করছে। স্কুলটি ভিজিট করলেই বুঝবেন এই স্কুলের শিক্ষকরা কতোটা মনোযোগ ও মমতা দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান করেন। তাছাড়া আমি স্কুলটিতে যোগদানের পর শিক্ষার্থীদের ড্রেসকোডসহ শিক্ষার মান উন্নয়নে অভূতপূর্ব পরিবর্কনের চেষ্টা করেছি। আমার স্কুলের শিক্ষার্থীরা এখন পড়াশোনার পাশাপাশি বিভাগীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বিজয়ী হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, স্কুলটি শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত হওয়ার কৃতিত্ব শুধুমাত্র আমার একার নয়। স্কুলটিকে শ্রেষ্ঠ বানাতে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছেন আমার সহকারী শিক্ষকরাও। একইসঙ্গে যারা স্কুলের নতুন ভবন নির্মাণ করে দিয়েছেন এই শ্রেষ্ঠত্বের পেছনে তারাও রয়েছেন।
জেবি