দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রামচন্দ্রপুরে কাশেম বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। মাদক, চুরি, লুটপাট, অপহরণ, অস্ত্র, মারামারিসহ প্রায় ডজনখানেক মামলা রয়েছে কাশেম বাহিনী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে। ওই এলাকার বিশাল একটি অংশে তিনি মাদক নিয়ন্ত্রণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এসব অপরাধ জগতের মূল নায়কের ভূমিকায় সব জায়গাই এদের আধিপত্য বিস্তার, একটি রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় এরা বেপরোয়া। প্রকাশ্যে এদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস নেই। এরা রামচন্দ্রপুর বাজারে বিভিন্ন দোকানে চুরি করে ধরা পরার পরও পেশি শক্তির জোরে বেঁচে যায়।
এমন অভিযোগ কুমিল্লা জেলা মুরাদনগর উপজেলা রামচন্দ্রপুর উত্তর ইউনিয়নের দক্ষিণ বাখরাবাদ গ্রামের মৃত চান মিয়ার ছেলে আবুল কাশেম মিয়া ও তার ছেলেদের বিরুদ্ধে।
এদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে প্রথম মামলাটি করেন মুরাদনগর থানায় গত ১৯ জুলাই ২০০১ এর ঘটনায় তখনকার ইউপি চেয়ারম্যান মরহুম আলহাজ সফু মিয়া সরকার।
২৭ মার্চ ২০০৩ সালে এদের বিরুদ্ধে মুরাদনগর থানায় মামলা করেন বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মৃত সুরুজ মিয়ার ছেলে মো. বাবুল মিয়া।
৯ অক্টোবর সালে চাঁদাবাজি ও লুটপাটের অভিযোগে এদের বিরুদ্ধে মামলা করেন রামচন্দ্রপুর বাজারের ব্যবসায়ী আলহাজ জীবন মিয়া মেম্বার।
১৭ জুন ২০০৮ কলেজ হোস্টেল থেকে এক ছাত্রকে উঠিয়ে নিয়ে মোবাইল ফোন ও টাকা রেখে মারধর করে আটকিয়ে রাখার অভিযোগে দেবিদ্বার উপজেলার ধামতি গ্রামের মো. নুরুল ইসলামের স্ত্রী মোসা. রাসেদা ইসলাম বাদী হয়ে মুরাদনগর থানায় একটি মামলা করেন।
৪ ডিসেম্বর ২০২০ সালে বি চাপিতলা গ্রামের মৃত কাজী মোখলেছুর রহমান ভূইয়ার ছেলে মো. কবির হোসেন ভুইয়া এদের বিরুদ্ধে বাঙ্গরা বাজার থানায় মামলা করেন।
গত ১১ মে ২০২২ সালে খানেপাড়া গ্রামের মৃত চৌধুরীর ছেলে মো. রায়েত আলী এদের বিরুদ্ধে বাঙ্গরা বাজার থানায় মামলা করেন।
এ বছরের ২৫ এপ্রিল বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশ কাশেমের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৬৫ বোতল ফেনসিডিলসহ কাশেম মিয়ার ছেলে মাসুককে আটক করে মামলা রুজু করেন।
গত ১১ আগষ্ট ২০২৩ তারিখে কাশেম মিয়ার প্রতিবেশী ধনু মিয়ার ছেলেদের উপর হামলার ঘটনায় মৃত সুকন মিয়ার ছেলে ব্যবসায়ী ধনু মিয়া এদের বিরুদ্ধে বাঙ্গরা বাজার থানায় একটি মামলা রুজু করেন।
গত ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে রামচন্দ্রপুর বাজার পাড়ার মো. হারুন মিয়ার ছেলে মো. মোস্তফা (৪২) বাদী হয়ে কাশেম মিয়া ও তার ৪ ছেলের বিরুদ্ধে বাঙ্গরা বাজার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিবাদীদের সঙ্গে পূর্ব থেকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এলাকায় একাধিকবার শালিসি দরবার করা হলেও এরা কোনো প্রকার দরবার না মেনে অন্যায়-অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে। এর জের ধরে গত ৯ সেপ্টেম্বর তারিখে বাদীর চাচাতো ভাই রামচন্দ্রপুর বাজারের ব্যবসায়ী মো. আবদুল জলিল মিয়ার ছেলে পাভেল চাউল কেনার জন্য নগদ ৩ লাখ টাকা নিয়ে কোম্পানীগঞ্জ বাজারে যাওয়ার পথে এলোপাতাড়ি মারধর করে ৩ লাখ টাকা নিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে বাদী ও সাক্ষীরা পাভেলকে রক্ষা করতে আসলে বাদী ও এক নম্বর সাক্ষী বাখরাবাদ গ্রামের মৃত মুতি মিয়ার ছেলে মো. কাউছার আহত হয়। কাউছারের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাদী।
মো. মোস্তফা জানিয়েছেন এ ঘটনায় যারা পাভেলকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসছে এবং যারা সাক্ষী তাদেরকে প্রাণনাশের হুমকি ধমকি দিচ্ছে। আমাদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা করার পাঁয়তারা করছে। এদের বিরুদ্ধে এলাকায় প্রায় ডজনখানেক মামলা থাকার পরও এদের অত্যাচার থেকে আমরা বাঁচতে পারি না।
এ বিষয়ে বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আবুল কাশেম ও তার ছেলেদের বিরুদ্ধে বাঙ্গরা বাজার থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেবি