দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় গৃহবধূ রাশিদা বেগম হত্যা মামলার রায়ে নিহতের দ্বিতীয় স্বামী তামিম শেখ ও তার সহযোগী রুবেল খা ওরফে রুবেল দড়িয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
একইসঙ্গে তাদের ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও একমাসের দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এ মামলার অপর আসামি জুলহাস শেখকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। বরিশালের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক কেএম রাশেদুজ্জামান রাজা আজ মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা গোপালগঞ্জের বেদগ্রামের বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
নিহত রাশিদা বেগম আগৈলঝাড়া উপজেলার নগরবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। এর আগে একটি একটি বিয়ে এবং প্রথম স্বামীর দাম্পত্যে দুটি সন্তান রয়েছে। প্রথম স্বামী মোকাদ্দেসের সঙ্গে বিয়ে বিচ্ছেদের ৩ বছর পর তামিমকে বিয়ে করে সে। দ্বিতীয় ঔরসে তাদের একটি সন্তান হয়। আগের দুজন এবং পরের ঘরের একজনসহ ৩ সন্তান নিয়ে রাশিদা আগৈলঝাড়ার বাকাল ১ নম্বর ব্রিজ এলাকার একটি বাসায় ভাড়া বসবাস করতেন। তামিম শেখের আরেক স্ত্রী গোপালগঞ্জে বসবাস করতেন। মাঝে মধ্যে বাকালে দ্বিতীয় স্ত্রীর কাছে যাতায়াত ছিলো তার।
আদালতের নথি থেকে জানা যায়, ২০২২ সালেল ১৯ জানুয়ারি ডাক্তার দেখানোর কথা বলে রাশিদাকে গোপালগঞ্জে নিয়ে যায় তামিম। ওইদিন রাতে একটি মাহেন্দ্র আলফা যোগে গোপালগঞ্জ থেকে আগৈলঝাড়া বাইপাস মোড়ে নিয়ে রাশিদাকে এলাপাথারী কুপিয়ে হত্যা করে তার সঙ্গে থাকা ১০ মাস বয়সের সন্তান তনিমকে অদূরে ফেলে রেখে যায় তামিম ও তার সহযোগীরা।
নবজাতক শিশুর কান্নার সূত্র ধরে এলাকাবাসী ওই রাতেই রাশিদার লাশ আবিষ্কার করে এবং পুলিশে খবর দেয়। নিহতের ছোট ভাই আল আমিন শাহ তার বোনের লাশ শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় ২০ জানুয়ারি নিহতের ভাই আল আমিন শাহ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে আগৈলঝাড়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
আগৈলঝাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. মাজাহারুল ইসলাম ওই বছরের ৩১ জুলাই ৩ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এর আগে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ৩ আসামি হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
পরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ১০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বিচারক দণ্ডাদেশ দেন। রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এই রায়ে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ কমবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
জেবি