দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার চণ্ডিপুর থেকে অপহৃত স্কুলছাত্রীকে ঢাকা থেকে উদ্ধার এবং অপহরণের সঙ্গে জড়িত মূল অভিযুক্ত মাসুদ পারভেজকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে অভিযান চালিয়ে অপহৃত স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার ও মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি অপহরণের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত মাসুদ পারভেজের মা মোছা. পারুলা খাতুনকেও আটক করেছে।
এছাড়াও অপহৃত স্কুলছাত্রীকে বিদেশে পাচার করার লক্ষ্যে ভূয়া কাগজপত্র তৈরি করে পাসপোর্ট তৈরিতে সহযোগিতার অভিযোগে এক দালালকেও আটক করা হয়েছে। তবে এই অপহরণের ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী একরামুল হক ডালিম এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাকেও দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নেওয়ার জন্য কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারের সহযোগিতা কামনা করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।
র্যাব-১ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, অপহরণের ঘটনার পর মূল অভিযুক্ত মাসুদ পারভেজ জুলাই মাসের ২৪ তারিখ বাংলাদেশ ছেড়ে সৌদি আরবে পালিয়ে যায়। অপহরণের ঘটনায় মামলা হলেও মূল অভিযুক্ত দেশের বাইরে পালিয়ে থাকার কারনে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। গত ৭ সেপ্টেম্বর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সৌদি আরব থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশকালে র্যাব-১ এর একটি চৌকস দল অভিযান চালিয়ে অপহরণের ঘটনায় অভিযুক্ত মাসুদ পারভেজকে গ্রেপ্তার করে। মাসুদ পারভেজকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপহৃত স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে র্যাব। এ সময় অপহরণে সহযোগিতার অভিযোগে মাসুদ পারভেজের মা মোছা. পারুলা খাতুনকেও আটক করা হয়।
ভিকটিমকে উদ্ধার করার পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস এম আবুল বাসার ভিকটিম ও আসামিদের র্যাব-১ এর কাছে থেকে বুঝে নিয়ে কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করলে ভিকটিম স্কুলছাত্রী ২২ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি দেন। পরে আদালতের আদেশে ভিকটিমকে তার মা হ্যাপি আক্তারের জিম্মায় দেওয়া হয়। অপহরণের ঘটনায় গ্রেপ্তার ও আটক ৩ আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তিনজনকেই জেলহাজতে পাঠান। মামলার বাদী ও ভিকটিমের মামা সোহেল রানা জানান, দীর্ঘ দুই মাস পর আমার ভাগ্নিকে অক্ষত উদ্ধার করায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। পাশাপাশি যারা এই অপহরণের ঘটনায় জড়িত আছে তাদেরকেও আইনের মাধ্যমে কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, এই অপহরণের ঘটনার মূল অভিযুক্ত মাসুদ পারভেজের চাচা একরামুল হক ডালিম সরাসরি জড়িত আছে। একরামুল হক ডালিম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সেপাহী পদে কর্মরত থাকার সুযোগ নিয়ে দীর্ঘ দুই মাস আমার ভাগ্নিকে অপহরণ করে বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে থাকতে অভিযুক্ত মাসুদ পারভেজকে সহযোগিতা করেছে। তিনি এই মামলায় একরামুল হক ডালিমকেও অভিযুক্ত সাপেক্ষে কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস এম আবুল বাসার জানিয়েছেন, অপহরণের ঘটনায় তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। ভিকটিমকে তার মায়ের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। মামলার তদন্ত কাজ চলমান। খুব দ্রুত সময়ে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
জুলাই মাসের ৩ তারিখ বিকেলে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের নিজ বাড়ির সামনে থেকে স্কুলছাত্রী জান্নাতুল মাওয়া সোহাকে অপহরণ করে অভিযুক্তরা। এই ঘটনায় সোহার মামা সোহেল রানা একজনকে আসামি করে ভেড়ামারা থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।
জেবি