দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

হোটেল ফুড ভিলেজ প্লাস উত্তরের ২২ জেলার যাত্রীদের কাছে একটি পরিচিত নাম। সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকায় অবস্থিত এটি। অবশেষে হোটেলটি বন্ধ হয়ে গেল। উত্তরের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগের পথে আসা-যাওয়া দূরপাল্লার প্রায় সবকটি জেলার বাসই যাত্রাবিরতি দিত এই হোটেলটিতে।
সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে হোটেলটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, মহাসড়কে চলছে সড়ক উন্নয়নের কাজ। ঢাকা-রংপুর চারলেনের কাজের পাশাপাশি হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকায় নির্মাণ হবে ইন্টারচেঞ্জ। আর এই ইন্টারচেঞ্জ প্রকল্পের কারণেই বন্ধ হয়ে গেল এই হোটেলটি। এর সঙ্গে বন্ধ হয়ে গেল হোটেলটিকে কেন্দ্র করে তার সামনে গড়ে ওঠা চা-পান-সিগারেটের প্রায় পঞ্চাশটিরও বেশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর দোকান।
হোটেল ফুড ভিলেজ সূত্রে জানা যায়, এসআর গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান এটি। ২০১৩ সালের ২৬ মার্চ প্রতিষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন এসআর গ্রুপের চেয়ারম্যান সাবেক সংসদ সদস্য জি.এম সিরাজ। সেদিন থেকে শুরু করে ১০ বছর চলার পর বন্ধ হলো হোটেলটি।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বলেন, উত্তরবঙ্গের সব জেলার মানুষ যাতায়াত করার সময় যাত্রা বিরতীতে এখানে থামতেন। তাদের বেশিরভাগই হোটেলের সামনের দোকানগুলো থেকে পান-সিগারেট-চিপস-পানীয় এগুলো কেনাকাটা করতেন। এখন হোটেল বন্ধ হয়ে গেল। আর কোনো বাসও এখানে দাঁড়াবে না। তাই এখানে আর ব্যবসা রাখার সুযোগ নাই।
এদিকে হোটেলটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হোটেলের বিভিন্ন পদে কাজ করা প্রায় হাজার খানেক শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়বেন।
হোটেল ফুড ভিলেজ প্লাস এ কাজ করা এক শ্রমিক (নাম প্রকাশ না করার শর্তে) বলেন, এখানে বিভিন্ন পদে প্রায় হাজার খানেক কর্মচারী আছেন। এরা সবাই কর্মহীন হয়ে পড়বেন।
শ্যামলী পরিবহনের ঢাকা শ্যামলী কাউন্টার মাস্টার এরশাদ আলী বলেন, ফুড ভিলেজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে এখন থেকে শ্যামলী পরিবহনের সব বাস হোটেল হানিফে দাঁড়াবে। আপাতত ১৬ মাইল এলাকায় হানিফ হাইওয়ে হোটেল যেটি আছে সেটাতে দাঁড়াবে এবং তাদের হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকায় একটি হোটেল থাকলেও সেটি আপাতত বন্ধ আছে। তবে হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকায় দাঁড়ানো বাসগুলো ধরে রাখতে তারা আপাতত ইন্টারচেঞ্জ প্রকল্প শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত সেটিও পুনরায় চালু করবে বলে জানিয়েছে।
তিনি বলেন, এভাবে সব গাড়ির মালিক পক্ষই এখন অন্য কোনো হোটেলে সঙ্গে কথা বলে সেখানে দাঁড়ানোর ব্যবস্থা করবে।

সমস্যায় পাবনার যাত্রীরা:
ফুড ভিলেজ প্লাস হোটেলটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে সবচেয়ে বেশি ঝামেলায় পড়বেন পাবনার যাত্রীরা। পাবনার পর থেকে হাটিকুমরুল গোলচত্ত্বর হয়ে এলেঙ্গার আগ পর্যন্ত তেমন কোনো ভালো মানের হোটেল না থাকায় বাসগুলো কোথায় যাত্রাবিরতি দেবে সেটা বলতে পারছেন না কর্তৃপক্ষ।
পাবনা মালিক সমিতি বলছে এ বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কাল থেকে বাসগুলো কোথায় দাঁড়াবে তাও জানেন না তারা।
হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদরুল কবীর বলেন, হোটেল ফুড ভিলেজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচলে বা যানজট সৃষ্টির মতো কোনো সমস্যা হবে না। কিন্তু বিশেষ করে পাবনাগামী বা পাবনা থেকে ঢাকাগামী যে বাস এবং যাত্রীরা আছেন তাদের জন্য একটা বড় সমস্যা হবে।
তিনি বলেন, বগুড়াগামী বা বগুড়া-ঢাকা রোডেও কিছু ভালো হোটেল আছে। রাজশাহী রোডে খুব ভালো না থাকলেও কিছু হোটেল আছে। কিন্তু পাবনা রোডে যাত্রাবিরতি দেওয়ার মতো তেমন কোনো হোটেলই নেই। হয় তাদের এলেঙ্গা বিরতি দিতে হবে না হলে একদম পাবনা গিয়ে। এটা তাদের জন্য একটু কষ্টকর হবে বলে আমার মনে হয়।
পাবনা বাস মালিক সমিতির অফিস সচিব আমিনুল ইসলাম বাবলু বলেন, ফুড ভিলেজ প্লাস হোটেল বন্ধ হয়ে গেল। এটা সত্যিই আমাদের জন্য একটা বড় সমস্যা। কারণ পাবনা থেকে ঢাকাগামী বা ঢাকা থেকে পাবনাগামী সড়কে পাবনা থেকে এলেঙ্গার মধ্যে তেমন কোন হোটেলই নেই। এখন বাসগুলো কোথায় যাত্রা বিরতি দেবে! আমরা এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি।
তিনি বলেন, এটা একদিকে যেমন যাত্রীদের জন্য সমস্যা হল, তেমনই সমস্যা হল বাস মালিকদের জন্যও। তবে আশা করছি আমরা একটি বৈঠক করে খুব দ্রুতই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্তে চলে আসব।
ফুড ভিলেজ প্লাস হোটেলের সিনিয়র উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. শাহজাহান রেজা সাগর বলেন, টানা ১০ বছর সেবা দেওয়ার পরে ইন্টারচেঞ্জ প্রকল্পের কারণে হোটেলটি বন্ধ করে দিতে হলো। আসলে ফুড ভিলেজ প্লাস উত্তরবঙ্গের মধ্যে একটা সুনামধন্য প্রতিষ্ঠান। এটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হয়তো অনেকেরই মন খারাপ হবে, সমস্যা হবে কিন্তু আমাদেরও কিছু করার ছিল না। এখানে পাবনা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, চাঁপাই, কনসার্ট, নওগাঁ ও বগুড়াসহ আরও কিছু জেলার বাস যাত্রাবিরতি দিত।
তিনি আরও বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত অন্য কোথাও যাওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। বিষয়গুলো নিয়ে সাসেকের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। আমরা নলকা ব্রিজের আশেপাশে ভালো কোনো জায়গা পেলে সেদিকে যেতে পারি।
জেডএ