দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আধুনিক বিশ্বেরর সঙ্গে তাল মিলাতে গ্রামীণ এ জনপদের দ্বীনি শিক্ষার আলো ছড়ানোর প্রয়াসে মাওলানা মিজানুর রহমান দারুচ্ছুন্নাত মাদরাসাটি ২০১০ সালে ৯০ শতাংশ জমির উপরে প্রতিষ্ঠা করা হয়। মাত্র ৫০জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করে বর্তমানে মাদরাসাটিতে এফতেদায়ী থেকে দাখিল পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৩৫ জন। ২০১৪ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি সুনামের সঙ্গে শিক্ষার মান ধরে রাখলেও প্রতিষ্ঠানটি এমপিও হয়নি। দাখিল পরিক্ষার অনুমোদন না থাকায় অন্য প্রতিষ্ঠানের নামে রেজিস্ট্রেশন করে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। রয়েছে অবকাঠামোর সংঙ্কট।
২০১৪ সালে প্রাথমিক স্বীকৃতি লাভের পর পিএসসিতে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বৃত্তিসহ ১০০% পাশের সুনাম অর্জন করেন। ২০১৬ সালে জেডেসিতে রেজিষ্ট্রেশন পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি আরেক ধাপ এগিয়ে যায়। মিজানুর রহমান দারুচ্ছুন্নাত মাদরাসাটি জেডেসি পরীক্ষায় এখন পর্যন্ত আটবার অংশগ্রহণ করে কয়েকটি বৃত্তিসহ শতভাগ পাশের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন। শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে ২০১৯ পিএসসি পরীক্ষায় ৭টি জিপিএ ৫ নিয়ে উপজেলায় শীর্ষস্থান অর্জন করেন। ২০১৯ সালে জেডেসি পরীক্ষায় রাকিবুল হাসান নামের এক ছাত্র পয়েন্ট তালিকায় জেলার মধ্যে শীর্ষস্থান অর্জন করেন।
২০২১ সালে প্রথম দাখিল ব্যাচ শুরু হয়। এ পর্যন্ত তিনটি ব্যাচে অনেকগুলো জিপিএ-৫সহ আমাদের শিক্ষার্থীরা শতভাগ পাস করেছে। ২০২৩ সালের দাখিল পরীক্ষায় ১০টি জিপিএ-৫, ১০টি পেয়ে উপজেলায় শীর্ষস্থান অর্জন করে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় মাদরাসায় দাখিল পরীক্ষার অনুমোদন না থাকায় অন্য স্কুলের নামে রেজিস্ট্রেশন করে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। যার ফলে অর্জন চলে যায় অন্যের ঝুলিতে।
ব্রক্ষণচাপিতলা মাওলানা মিজানুর রহমান মুনিরী দারুচ্ছুন্নাত মাদরাসাটি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা রামচন্দ্রপুর দক্ষিণ ইউনিয়নে ব্রাক্ষণচাপিতলা গ্রামে প্রতিষ্ঠিত।
প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পরিষদের সভাপতি কামরুল হাসান মেম্বার বলেন, মাওলানা মিজানুর রহমান মুনিরী ১৩ বছর আগে মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। সরকারি কোনো অনুদান না থাকায় টিনের চালার নিচে ক্লাশ নিতে হচ্ছে। এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষকদের বেতন দেওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পরে।
আরবি শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমরা ২১জন শিক্ষক অত্র প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করছি। মাশাআল্লাহ সবাই অনার্স, মাষ্টারস, কামিল শেষ করে এখানে আছি। পরিচালনা পর্ষদ যথেষ্ঠ মূল্যায়ন করে আমাদের সম্মানি দিচ্ছে। এমপিও হলে এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেলে আমরা আরও উৎসাহিত হতাম।
মাদরাসার শিক্ষক কুতুবউদ্দিন রাফি বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের যোগ্য করে তোলার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। অনেক সময় আমরা আমাদের পকেটের টাকা দিয়ে তাদের বই খাতা কিনে দিচ্ছি। সরকারের সদয় দৃষ্টি পেলে আমরা আরও ভালো কিছু করতে পারব। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী ফরিদ উদ্দিন বলেন, ব্রাক্ষণচাপিতলা মাওলানা মিজানুর রহমান দারুচ্ছুন্নাত মাদরাসাটি গ্রামীণ জনপদে আলো ছড়াচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক কল্যাণে আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
জেবি