দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কুড়িগ্রামের সব নদনদীর পানি কমলেও বাড়ছে দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্রের পানি। টানা এক সপ্তাহ ধরে পানি বাড়তে থাকায় এই নদের অববাহিকার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে তিন উপজেলার চার ইউনিয়নের হাজারেরও বেশি পরিবার।
আরও দুই একদিন পানি বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। পরিস্থিতি বিবেচনায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা বিতরণ শুরু হয়েছে। পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় জেলার নাগেশ্বরী ও ভুরুঙ্গামারী দুধকুমার নদী এবং উলিপুর ও চিলমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্রের পানি ছয় ইঞ্চি থেকে এক ফুট উচ্চতায় বৃদ্ধি পেতে পারে। এ সময় নদের পানি বিপৎসীমায় পৌঁছে আবারও কমতে শুরু করবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
পাউবোর নিয়ন্ত্রণ কক্ষ জানায়, শুক্রবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা পর্যন্ত জেলার সব নদনদীর পানি কমতে থাকলেও দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এ সময় নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে এবং চিলমারী পয়েন্টে বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
ব্রহ্মপুত্রের অব্যাহত পানি বৃদ্ধিতে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নিন্মাঞ্চল, চরাঞ্চল এবং কুড়িগ্রাম সদরের যাত্রাপুর, উলিপুরের বেগমগঞ্জ, সাহেবের আলগা, হাতিয়া এবং চিলমারী উপজেলার নয়ারহাট ইউনিয়নের হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। নিম্নাঞ্চলের আমন খেত ও কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার চরাঞ্চলের অসংখ্য পরিবারের ঘরের ভেতর পানি প্রবেশ করায় বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বাসিন্দাদের রান্নার চুলা ও শৌচাগার পানিতে নিমজ্জিত থাকায় বিড়ম্বনায় পড়েছেন এসব পরিবারের কয়েক হাজার মানুষ। নারী, শিশু ও বয়স্ক সদস্যদের নিয়ে বিপাকে পড়েছে পানিবন্দি পরিবারগুলো।
নাগেশ্বরী পৌরসভার মনিরচর এলাকার আয়শা বেগম বলেন, বসতবাড়িতে পানি উঠায় পরিবার নিয়ে অনেক কষ্টে দিন যাপন করছি। আমাদের অবস্থা খারাপ। ঘরে বাইরে পানি। পানি বাড়তেই আছে।
নুনখাওয়া ইউনিয়নের চর কাপনা এলাকার জিয়াউর রহমান বলেন, এবার নিয়ে এ মৌসুমে চারবার পানি উঠলো। ঘরের ভেতর কোমর সমান পানি। ভালা নেই ও চরের সব পরিবারের ঘরে পানি।
বেরুবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চেয়ারম্যান সোলায়মান আলী বলেন, দুধকুমার নদের পানি বৃদ্ধির ফলে ইউনিয়নের ৩টি ওয়ার্ডের অন্তত তিন শতাধিক পরিবার পানিবন্দি। এসব পরিবারের ঘরের ভেতর হাঁটু থেকে বুক সমান উচ্চতায় পানি। এই পরিস্থিতিতে এসব পরিবারকে সরকারিভাবে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
চিলমারীর নয়ারহাট ও অষ্টমীরচর ইউনিয়নের কয়েকশত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব পরিবারের বাড়ির আঙ্গিনা ও ঘরের ভেতর পানি প্রবেশ করায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় উপজেলার তিন ইউনিয়নের কয়েকশ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে।
নয়ারহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান জানান, 'তার ইউনিয়নের হাতিয়া বকসি, কাজলডাঙা, গয়নার পটল, উত্তর খাউরিয়ার চর পশ্চিমপাড়াসহ ইউনিয়নের প্রায় এক হাজার পরিবার পানিবন্দি। এসব পরিবারের অনেকের জীবন ঘরের ভেতর চৌকিতে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। এদের খাদ্য সহায়তার প্রয়োজন হলেও বরাদ্দ না পাওয়ায় একটি পরিবারকেও খাদ্য সহায়তা দেওয়া সম্ভব হয়নি। ইউনিয়নের অন্তত দেড়শ হেক্টর জমির ছিটা আমন ও কালাই খেত পানিতে তলিয়ে পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে।'
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্যাহ আল মামুন বলেন, কুড়িগ্রামে আরও ২৪ ঘণ্টা দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদ-নদীর পানি বাড়বে। তিস্তার পানি কমে আসছে। বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ বলেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি রেখেছি। খাদ্য সহায়তা বিতরণ চলছে। যেসব এলাকায় এখনও সহায়তা পৌঁছায়নি সেসব এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে যাচ্ছে। আমি সেভাবেই নির্দেশনা দিচ্ছি।
জেবি