দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে এতিমখানার মেঝে ভালোবাবে ঝাড়ু না দেয়ায় এক এতিম শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে আহত করেছে ওই এতিমখানার এক শিক্ষক। ইতিমধ্যে নানা কৌশলে ঘটনাটি ধামাচাপা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী পৌর শহরের গড়কান্দা মহল্লায় ‘গড়কান্দা এতিমখানা’ নামে এই প্রতিষ্ঠানে ৩৫ জন শিক্ষার্থী নূরানি, নাজেরা ও হিফজ বিভাগে শিক্ষা গ্রহণ করে আসছে।
সহপাঠীদের সঙ্গে নাজেরা বিভাগে নিয়মিত পাঠদান করে আসছে কাপাসিয়া গ্রামের মৃত আ. রশিদের ছেলে মো. ওলিউল্লাহ (১২)। ওলিউল্লাহ সহপাঠীদের সঙ্গে মাদরাসার মেঝে ঝাড়ু দেয়। ঝাড়ু শেষে হুজুর আবু নাঈম দেখতে পায় কিছু ময়লা রয়ে গেছে। এতে রাগান্বিত হয়ে হুজুর নাঈম শিক্ষার্থী ওলিউল্লাহর ডান হাতে বেত দিয়ে চারটি আঘাত করে।
ঘটনার কয়েক দিন পর ওলিউল্লাহর হাত ফুলে জখমটি দেখা যায়। টের পেয়ে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ গত ৪ আগস্ট ওলিউল্লাহকে ডাক্তার মশিউর রহমান মানিকের কাছে চিকিৎসা করান।
ওলিউল্লাহকে বাড়িতে এবং হুজুরকেও বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। পরে গত ১৭ আগস্ট থেকে ওই ছাত্রকে অর্থোপেডিক্স ডাক্তার মনিরুজ্জামান মনিরকে চিকিৎসাধীন রাখা হয়।
এদিকে এতিমখানা কর্তৃপক্ষ আঘাতকারী শিক্ষক আবু নাঈমকে চিকিৎসা সেবার খরচ নিয়ে মাদরাসা থেকে বিদায় করে দিয়েছেন। আশপাশের লোকজন বিষয়টি জেনে গেলে দ্রুত ঘটনা ধামাচাপা দেন এতিমখানা কর্তৃপক্ষ। পিতাহারা ওলিউল্লাহর মা ও ভাইকে এমনভাবে বুঝ পরামর্শ দিয়ে দেন যাতে অভিভাবকদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকে। এ বিষয়ে ওলিউল্লাহ ও তার ভাইয়ের সঙ্গে কথা বললে তারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।
ক্যামেরার সামনে কথা না বললেও মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট ইফসুফ আলী, সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম ও মাদরাসা প্রধান মোজাম্মেল হক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন-আমরা ওই হুজুরকে বিদায় করে দিয়েছি শিক্ষার্থীকে চিকিৎসা দিচ্ছি। আমাদের কমিটির বিরুদ্ধে কথা বলার কোনো সুযোগ নেই।
জেবি