দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় জেলা শহরের কাছাকাছি স্থাপনের দাবিতে চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব মোর্শেদ টিপু মাদবরকে ঘিরে এবার বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমিনুর রহমান আমান মাদবর। টিপু মাদবরের ‘ঘাড় থেকে মাথা সরিয়ে দেওয়ার’ হুমকির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।
গত রোববার (১ নভেম্বর) সকালে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে টিপু মাদবরের বিরুদ্ধে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ হুমকি দেন আমান মাদবর। এ সময় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য দিচ্ছেন আমান মাদবর। একপর্যায়ে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপুকে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে তারা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন। জেলা বিএনপি নেতারা তাদের আশ্বস্ত করেছেন, এক-দুই দিনের মধ্যে টিপু মাদবরকে দল থেকে বহিষ্কার ও গ্রেপ্তার করা হবে।
এরপর তিনি বলেন, মিয়া নুরুদ্দিন অপুকে নিয়ে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র হলে, রাজনৈতিক অঙ্গনে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হলে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যত শক্তিশালীই হোক, তার ঘাড় থেকে মাথা সরিয়ে দেওয়া হবে এবং শরীয়তপুরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে।
জানা গেছে, শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় জেলা শহরের কাছাকাছি স্থাপনের দাবিতে গত ২৮ অক্টোবর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব মোর্শেদ টিপু মাদবরের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ওই কর্মসূচির পর জাতীয় সংসদের হুইপ ও শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপুকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা।
এর প্রতিবাদে গত ১ নভেম্বর সকালে জেলা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের একাংশের নেতাকর্মীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। পরে শহরের প্রধান সড়ক অবরোধ করে টিপু মাদবরের বহিষ্কার ও গ্রেপ্তারের দাবি জানান তারা। এ সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরদার এ কে এম নাসির উদ্দিন কালুর কাছে স্মারকলিপিও দেন বিক্ষোভকারীরা।
এদিকে আমান মাদবরের বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর গতকাল সোমবার রাতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কের পাশে স্থাপনের দাবিতে স্থানীয়দের নিয়ে আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে বক্তব্য দেন টিপু মাদবর।
এ সময় তিনি বলেন, বিভিন্ন জায়গায় তার ছবি তৈরি করে পোড়ানো হচ্ছে এবং তাকে ঘাড় থেকে মাথা নামিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। গত ১৭ বছর তিনি না থাকলে শরীয়তপুর শহরে কেউ মিছিল করার সাহস পেতেন না বলেও দাবি করেন তিনি। ২০১৮ সালে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন নেতার বাড়িতে হামলার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে টিপু বলেন, সেদিন তিনি তাদের রক্ষা করেছিলেন। তার জীবন আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে কেটেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেউ যেন তাকে যুদ্ধের হুংকার না দেন। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শরীয়তপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে স্থাপনই তাদের দাবি বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমিনুর রহমান আমান মাদবর অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমি এ ধরনের বক্তব্য দিইনি। আপনার ভালো করে শুনেন।’ এ কথা বলার পরপরই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
অন্যদিকে, তাকে উদ্দেশ করে দেওয়া হুমকির ভিডিও দেখেছেন জানিয়ে সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব মোর্শেদ টিপু মাদবর বলেন, এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন।
যে আই