দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পটুয়াখালীতে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা, প্রাণনাশের হুমকি এবং সরকারি ঘর নির্মাণের কাজ সম্পন্ন না করার অভিযোগে আমরণ অনশনে বসেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আজাহার আলী হাওলাদার। নিজের বসতভিটায় নিরাপদে বসবাসের নিশ্চয়তা ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে এ কর্মসূচি পালন করছেন তিনি।
রোববার (১ নভেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অনশনে বসেন ৭৬ বছর বয়সী এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। তার মুক্তিযোদ্ধা আইডি নম্বর ৬০৩০১০১৫৬।
আজাহার আলী হাওলাদার পটুয়াখালী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পুরাতন ফেরিঘাট এলাকার বাসিন্দা। তার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করছেন। এ ছাড়া একাধিকবার হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে তাঁকে। সরকারি ঘর বরাদ্দ পেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কারণে সেটির নির্মাণকাজ শেষ হচ্ছে না।
তিনি জানান, গত ১৪ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় তার বসতঘরে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পটুয়াখালী সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।
অভিযোগে স্থানীয় কামাল গাজী (৫০), ফারুক গাজী (৪৫), শামীম (৪০), লিটন (৫৫) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আজাহার আলী হাওলাদার বলেন, ‘আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। অথচ আজ নিজের বসতভিটায় নিরাপদে বসবাস করতে পারছি না। দীর্ঘদিন ধরে আমাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সরকারি ঘর বরাদ্দ পেলেও সন্ত্রাসীদের বাধায় ঘরের কাজ সম্পন্ন হচ্ছে না। আমি আমার বসতভিটায় নিরাপদে থাকার নিশ্চয়তা চাই। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু মুছা বলেন, মুক্তিযোদ্ধাকে যে জমি দেওয়া হয়েছে, সেটির মালিক তিনি নন। জমিটি তাঁর না হওয়ায় সেখানে ঘর নির্মাণের কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না। তাঁর নিজস্ব জমি থাকলে সেখানে ঘর নির্মাণের জন্য আবেদন করতে বলা হয়েছে। তবে তিনি এখনো আবেদন করেননি।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে জেলা প্রশাসক চৌধুরী আশরাফ করিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও তার বক্তব্য পাননি।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অনশন চালিয়ে যাচ্ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আজাহার আলী হাওলাদার। বসতভিটায় নিরাপদে বসবাসের নিশ্চয়তা, সরকারি ঘরের নির্মাণকাজ সম্পন্ন এবং হামলা ও হুমকির বিচার না পাওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
যে আই