দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গোপালগঞ্জে ১২ বছরের শিশু মো. তালহা ওরফে মুহিন হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং অপর এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গোপালগঞ্জ শিশু নির্যাতন ও সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোরশেদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে বাদীপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষ। তবে অসন্তোষ জানিয়ে উচ্চ আদালতে আপিলের কথা জানিয়েছে আসামিপক্ষ।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মো. আমিন উদ্দিন ও মো. শিহাব মোল্লা। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শাওন মোল্লা। দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে। অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অন্য এক আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি শিশু মুহিন নিখোঁজ হয়। পরদিন তাদের ভাড়াটিয়া আমিন উদ্দিনের ঘরের ভেতরে একটি ট্রাঙ্ক থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মুহিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. মানজুরুল ইসলাম বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে মামলা করেন।
আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ। গোপালগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট তৌফিকুল ইসলাম বলেন, “চাঞ্চল্যকর এই শিশু হত্যা মামলায় দুই আসামির ফাঁসি ও একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ হিসেবে আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট। এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক রায় কার্যকর হলে সমাজে অপরাধপ্রবণতা কমবে।”
তবে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এম জুলকদর রহমান। তিনি বলেন, “মামলায় কোনো প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী ছিল না। তাছাড়া গ্রেপ্তারের পর আসামিদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে না পাঠিয়ে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছিল। বিচারক আবেগতাড়িত হয়ে এই রায় দিয়েছেন বলে আমরা মনে করি। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব।”
এমএস/