দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ময়মনসিংহের ভালুকায় ফেসবুক লাইভে ‘কাকে ভোট দিলাম’ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করা সাথী আক্তারকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। পরে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে সাথী আক্তারকে ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাজেদুল ইসলাম তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে রোববার (২৫ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকা থেকে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা তাঁকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
গ্রেপ্তার সাথী আক্তারের বয়স ৩০ বছর। তিনি ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকার খাদিজা প্যালেস মার্কেটে অবস্থিত ‘সাথী বিউটি পার্লার’-এর মালিক। তাঁর বাবার নাম আমজাদ আলী।
আদালত পরিদর্শক মোহা. মোস্তাছিনুর রহমান বলেন, ভালুকা থানার পুলিশ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় সাথী আক্তারকে আদালতে পাঠায়। পরে তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটনের পরিকল্পনা করছেন বলে পুলিশের সন্দেহ হলে, সেই অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারে। এ ক্ষেত্রে পুলিশই বাদী হয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, সাথী আক্তারের ফেসবুক লাইভের পুরো ভিডিও পর্যালোচনা করা হয়েছে। সেখানে সরকারবিরোধী কোনো বক্তব্য বা সরকারের সমালোচনামূলক কিছু পাওয়া যায়নি। পুরো ভিডিও না দেখেই গুজব থেকে ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে।
ওসি বলেন, ভিডিওটি প্রচারের পর মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী তাঁর সঙ্গে কথা বলতে গেলে সাথী আক্তার তাঁদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন। এতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ কারণে তাঁকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। জামিনে মুক্ত হয়ে এলে ব্যবসা পরিচালনায় কোনো সমস্যা হবে না বলে মার্কেটের ব্যবসায়ীরা তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন।
কেন জামিন হয়নি, জানতে চাইলে ওসি বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আদালত জামিন দিতে পারেন, আবার নাও দিতে পারেন। কেউ যদি অভিযোগ করেন যে সাথী আক্তার সরকারবিরোধী কার্যকলাপ করেছেন, তাহলে ভিডিও বিশ্লেষণ করে এ বিষয়ে মামলা নিতে হবে। তবে কেউ মামলা না করলে তাঁর জামিন হতে পারে।
রোববার বেলা ২টার দিকে ‘সাথী মেকওভার’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে দুটি লাইভ করেন সাথী আক্তার। ৫ মিনিট ২২ সেকেন্ড ও ৮ মিনিট ৮ সেকেন্ডের ওই ভিডিও দুটিতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনায় তাঁকে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়া আজকে ভুক্তভোগী।’
ভিডিও দুটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঘেরাও করে বিচার দাবি করেন। এ নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হলে রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশ সাথী আক্তারকে হেফাজতে নেয়।
এমএস/