দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনজুর কাদের ভূঁইয়ার সঙ্গে তুমুল বাকবিতণ্ডায় জড়িয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, সংসদ সদস্য হিসেবে নিরাপত্তা না পাওয়া এবং ফোন না ধরার অভিযোগ তুলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে থানায় গিয়ে হইচই করার অভিযোগ করেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত সরাইল থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। পরে বাকবিতণ্ডার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা তার কর্মী সমর্থকদের নিয়ে থানায় যান। পরে তিনি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কক্ষে প্রবেশ করে সরাইলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে জানতে চান। একই সঙ্গে সংসদ সদস্য হিসেবে তাকে নিরাপত্তা না দেওয়া এবং ফোন না ধরার কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে তিনি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ‘আওয়ামী লীগের চোর ওসি’ বলে অভিহিত করেন। এ সময় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে থানায় যাওয়ার বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনজুর কাদের ভূঁইয়াও। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বিতর্ক হয়।
এ বিষয়ে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আইন অনুযায়ী স্থানীয় সংসদ সদস্য নিরাপত্তা চাইলে তা দেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী বিজয়নগর ও আশুগঞ্জ থানার পুলিশ তাকে নিরাপত্তা দিয়েছে। কিন্তু সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তার ফোন ধরেন না। বরং তিনি বলেছেন, নির্বাচিত সংসদ সদস্যের নিরাপত্তা মানুষ দেবে। এ কারণে তিনি হাজার হাজার মানুষ নিয়ে থানায় গেছেন, তারাই তাকে নিরাপত্তা দিচ্ছেন।
রুমিন ফারহানা আরও বলেন, সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনজুর কাদের ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ইটভাটা থেকে টাকা নেওয়া, মাটি কাটা এবং নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে জানতে তিনি থানায় গিয়েছিলেন।
অন্যদিকে, সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, সংসদ সদস্য বিপুলসংখ্যক লোকজন নিয়ে থানায় এসে হইচই করে মব সৃষ্টি করেছেন। এ সময় তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কথা উল্লেখ করে নানা অভিযোগ তোলেন। তবে তার দাবি, আগের তুলনায় এলাকায় দাঙ্গা হাঙ্গামা অনেকটা কমেছে। সংসদ সদস্যের সঙ্গে থাকা লোকজন যেসব অভিযোগ করেছেন, সেগুলো মিথ্যা। সংসদ সদস্য তাদের এসব অভিযোগ শিখিয়ে এনেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
নিজের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে সংসদ সদস্যের প্রশ্ন তোলার বিষয়ে মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, থানায় যে পরিমাণ পুলিশ সদস্য রয়েছেন, তা দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতেই তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। শারদীয় দুর্গাপূজার সময় সার্বিক নিরাপত্তার মধ্য দিয়েই সংসদ সদস্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছিল। তবে ব্যক্তিগতভাবে তার সঙ্গে পুলিশের একটি দল রাখা তখন কঠিন ছিল।
তিনি আরও বলেন, সংসদ সদস্য গানম্যান চাইলে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আবেদন করতে হবে। পুরো ঘটনাটি ভিডিও করে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
/অ