দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নাগেশ্বরীর কচাকাটা থানার ধারিয়ারপাড় (ভিতরবন্দ) রাস্তার সরকারি তিনটি গাছ কাটা হয়েছে। তিন মাস হলো অবৈধভাবে গাছগুলো কাটা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি নাগেশ্বরী উপজেলা বন বিভাগ।
এলাকাবাসী ও লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বল্লভেরখাস ইউনিয়নের মরহুম আব্দুল করিম চেয়ারম্যানের বাড়ী থেকে পশ্চিমে ধারিয়ারপাড (ভিতরবন্দ) পর্যন্ত কাঁচা রাস্তায় বিগত সময়ে আরডিআরএস প্রজেক্টের মাধ্যমে রাস্তার দুই ধারে গাছ লাগানো হয় এবং গাছগুলো বিক্রির উপযোগী হয়।
এদিকে ধারিয়ারপাড (ভিতরবন্দ) গ্রামের মৃত কেচমত আলীর ছেলে গিয়াস উদ্দিন ও নুর মোহাম্মদ এবং ফজলু রহমান, শহিদুল ইসলাম, সাইদি চক্ররা প্রায় তিন মাস আগে ওই রাস্তার ব্রীজের পাশে গ্রাম পুলিশ বাবলু মিয়ার বাড়ী সংলগ্ন সরকারের সম্পদ জামগাছ ১টি ও ২টি ভেল্লিগাছ দিনের বেলা কেটে ফেলে। গাছগুলোর অনুমানিক মূল্য ৬০হাজার টাকা।
তাৎক্ষণিক অত্র এলাকার নুরবনী হোসেন বিষয়টি কচাকাটা থানায় অবগত করলে এসআই হরিশ চন্দ্র ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সরকারের সম্পদ গাছ ৩টি উদ্ধার করে গ্রাম পুলিশ বাবলু মিয়ার জিম্মায় তার বাড়ীতে জমা রাখেন। পরবর্তীতে নাগেশ্বরী উপজেলা বন বিভাগ কর্মকর্তা সরেজমিনে তদন্ত করে গাছ কাটা ও রাখার সত্যতা পেলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি। এমন কি তৎকালীন কচাকাটার থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম মর্তুজা গাছ কর্তনের বিষয়ে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে তা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন। গত তিন মাস থেকে গাছ ৩টি গ্রাম পুলিশ বাবলু মিয়ার বাড়ীতে অযন্তে পড়ে নষ্ট হওয়ার উপক্রম প্রায়।
অভিযোগকারী নুরনবী হোসেন বলেন, ধারিয়ারপাড (ভিতরবন্দ) রাস্তার ৩টি গাছের আনুমানিক মূল্য ৬০হাজার টাকা। গাছ ৩টি কর্তনের বিরুদ্ধে গত (৩১মে ২০২৩) নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাইনি। বরং গাছ কর্তনকারী চক্র গিয়াস উদ্দিন ও নুর মোহাম্মদের লোকেরা আমাকে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন। এমনকি সরকারের সম্পদ হওয়ার পরেও কচাকাটার থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ গোলাম মর্তুজা কোন ব্যবস্থা নেয়নি। নাগেশ্বরী উপজেলা বন কর্মকর্তা কর্মকর্তা সাদিকুর রহমান শাহীন গাছ কাটা ও রাখা দেখার পরেও কোন ব্যবস্থা নেননি। বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
কচাকাটা থানার অফিসার ইনচার্জ বিশ্বদেব রায় বলেন, আমি সবেমাত্র যোগদান করেছি। বিষয়টি জেনে নেব। নাগেশ্বরী উপজেলা বন কর্মকর্তা মূলত এসবের দায়িত্ব পালন করেন। বন বিভাগ অবগত করলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাগেশ্বরী উপজেলা বন কর্মকর্তা সাদিকুর রহমান শাহীন বলেন, গাছগুলো আরডিআরএস প্রজেক্টের। তবুও সরকারের সম্পদ। বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকায় বিষয়টি দেখা হয়নি। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ বলেন, আমি শুনলাম। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
এফএইচ