দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভোলার সদর উপজেলায় পূর্বশত্রুতার জেরে এক বিএনপি নেতাকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে মো. আসিব (২৫) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর গণপিটুনিতে গুরুতর আহত আসিবের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) ভোরে ভোলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত আসিব সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মেদুয়া গ্রামের ধলু হাওলাদারের ছেলে। ছুরিকাঘাতে আহত বিএনপি নেতা হোসেন হাওলাদার ম্যানেজার রাজাপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং ওই ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।
পুলিশ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত সোয়া ৮টার দিকে রাজাপুর ইউনিয়নের আনন্দবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এর আগে নির্জন একটি স্থানে কয়েকজনের সঙ্গে লুডু খেলছিলেন আসিব। এ সময় বিএনপি নেতা হোসেন হাওলাদার কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে গিয়ে তাঁদের লুডু খেলতে নিষেধ করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে তাঁরা সেখান থেকে চলে যান।
এরপর আসিব আনন্দবাজারে গেলে সেখানে আগে থেকে অবস্থান করা হোসেন হাওলাদারের সঙ্গে তাঁর আবারও বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আসিব ধারালো ছুরি দিয়ে হোসেন হাওলাদারকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর আহত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তিনি বাড়িতে চলে যান।
আহত হোসেন হাওলাদারকে উদ্ধার করে প্রথমে ভোলা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে স্বজনেরা তাঁকে ঢাকায় নিয়ে যান।
অন্যদিকে, রাত আনুমানিক ৯টার দিকে আসিব বাড়ি থেকে বের হয়ে আনন্দবাজারে এলে আহত বিএনপি নেতার অনুসারী, স্বজন ও স্থানীয় কয়েকজন তাঁকে ঘিরে মারধর করেন বলে জানা গেছে। পরে তাঁকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
ইলিশা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ বশির আলম জানান, স্থানীয়দের মারধরে এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন—এমন খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে আসিবকে ইলিশা লঞ্চঘাট এলাকায় নেওয়া হয়। তাঁর শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শে একটি পিকআপে করে তাঁকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির জন্য হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এমএস/