দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকতে কাঠের তৈরি টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। রিসোর্টটির ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স ছিল না। গত জুনে পরিদর্শনের পর রিসোর্টটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সতর্ক করা এবং নোটিশ দেওয়ার পরও এর কার্যক্রম চালু ছিল বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরে ‘শারদীয় দুর্গাপূজায় অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ক’ প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মহাপরিচালক বলেন, তিনতলা কাঠের রিসোর্টটির নিচতলায় ছিল রেস্তোরাঁ। সেখানে খাবার তৈরি করা হতো। দোতলা ও তিনতলায় পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা ছিল। রিসোর্টটির প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তা সনদ ছিল না।
তিনি জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রিসোর্টটিতে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। ঘটনাস্থল থেকে নিকটতম ফায়ার স্টেশনের দূরত্ব ছিল ২২ কিলোমিটার। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। পরে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
লাইসেন্স নবায়ন না করা এবং সতর্ক করার পরও রিসোর্টের কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, রিসোর্টটি নিয়ম মেনে পরিচালনা করা হচ্ছিল না।
কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় কাঠ ও অন্যান্য দাহ্য উপকরণ দিয়ে তৈরি রিসোর্টগুলোর নিরাপত্তা ও অনুমোদনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মহাপরিচালক বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে নোটিশ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে নিরাপত্তাবিষয়ক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি। সামনে শুষ্ক মৌসুমে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান।
টুপটুপ রিসোর্টে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, অনুমানের ভিত্তিতে আগুন লাগার কারণ নির্ধারণ করা সঠিক হবে না। পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের পরই এ বিষয়ে জানা যাবে।
নোটিশ দেওয়ার পরও ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান চালু থাকা এবং সারা দেশে এ ধরনের রিসোর্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ফায়ার সার্ভিসের করণীয় পর্যালোচনা করা হবে। বিদ্যমান আইন ও নজরদারির সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কীভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পুরান ঢাকায় ঘন ঘন অগ্নিকাণ্ড, অনুমোদনহীন কারখানা ও গুদাম এবং বিস্ফোরক পদার্থের ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার সরু রাস্তা এবং ভবনগুলোর মধ্যে পর্যাপ্ত দূরত্ব না থাকা ফায়ার সার্ভিসের বড় চ্যালেঞ্জ। এসব কারণে অগ্নিনির্বাপণকারী যানবাহন ও সরঞ্জাম নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।
ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিধিবিধান ও বিল্ডিং কোড অনুসরণ করা জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুরোনো বসতি ও স্থাপনাগুলোতে একসঙ্গে সব ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা কঠিন। এ জন্য সময় প্রয়োজন। নতুন ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের নিয়ম মেনে চলতে বারবার সচেতন করা হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বাড়াতে বিকল্প ব্যবস্থার কথাও তুলে ধরেন মহাপরিচালক। তিনি বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ ও সরু রাস্তার এলাকায় দ্রুত পৌঁছানোর জন্য বিশেষ ধরনের তিন চাকার যান ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি মোটরসাইকেলে হোস পাইপ নিয়ে গিয়ে আশপাশের ভবনের পানির রিজার্ভারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে আগুন নেভানো যায় কি না, তা নিয়েও চিন্তাভাবনা চলছে।
যে আই