দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে পৌরসভার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উতরাইল বাজারে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন সাংবাদিকরা। সহকর্মীদের কণ্ঠে হত্যার বিচারের দাবি, আর স্বামীকে হারিয়ে দুই অবুঝ সন্তানকে নিয়ে বিচারপ্রত্যাশী স্ত্রী আনন্দিতার আকুতি—‘স্বামীকে আর ফিরে পাবেন না, তবে হত্যাকারীদের যেন দ্রুত আইনের আওতায় এনে নিশ্চিত করা হয় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।’
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সাধারণ সাংবাদিকদের উদ্যোগে সকালে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সাংবাদিক আলিফ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে সাংবাদিকরা বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের নানা অসংগতি, অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপরাধের চিত্র তুলে ধরে জনস্বার্থে কাজ করেন। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা করার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।
তারা আরও বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও হত্যার মতো ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সাংবাদিক আলিফ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো পরিকল্পনা বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করতে হবে।
এদিকে, স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে আনন্দিতা বলেন, ‘আমি তো আমার স্বামীকে আর ফিরে পাব না। তবে যারা তাকে হত্যা করেছে, আমার অবুঝ দুটি শিশুকে পিতৃহারা করেছে, পুলিশ তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনুক। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
নিহত সাংবাদিক আলিফ বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘রূপসী বাংলার’ নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া তিনি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। তার পৈতৃক বাড়ি কলমাকান্দার পোগলা এলাকায় হলেও তিনি দুর্গাপুর বিরিশিরি এলাকার শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে লুৎফুজ্জামান আলিফ উতরাইল বাজারে একটি দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে দুই যুবক এসে তাকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েকটি গুলি ছোড়ে। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার চেষ্টা করলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়।
দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমদ খান জানান, নিহত সাংবাদিকের মাথা, গলা, বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে পাঁচটি গুলির আঘাত পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক ইউনিট কাজ করছে। ঘটনাস্থল থেকে পিস্তলের গুলির খোসা ও একটি অবিস্ফোরিত গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
এর আগে গত ১০ নভেম্বর দুপুরে উপজেলার সোমেশ্বরী নদীর তেরিবাজার ঘাট এলাকায় দুর্বৃত্তরা লুৎফুজ্জামান আলিফকে কুপিয়ে জখম করেছিল। এ সময় তার সঙ্গে থাকা এক সহকর্মী বাধা দিতে গেলে তাকেও অস্ত্র উঁচিয়ে ধাওয়া করা হয়। নিহত আলিফ মাদক চোরাচালান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত লিখতেন বলে জানা গেছে।
কেএম