দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চট্টগ্রামের পটিয়ায় অংশীদারত্বের পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে বিরোধের জেরে একটি পরিবারের বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এক বৃদ্ধার ওপর হামলা চালিয়ে তাঁর দুটি দাঁত উপড়ে ফেলা হয়েছে এবং ডান হাতে জখম করা হয়েছে। এ সময় তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে বৃদ্ধার ছেলে ও পুত্রবধূও আহত হয়েছেন। উপজেলার কাশিয়াইশ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাকখাইন গ্রামে গত ১০ ও ১১ অক্টোবর দুই দফায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় গত বুধবার রাতে বৃদ্ধা জামানা খাতুন বাদী হয়ে পটিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাকখাইন জামে মসজিদ-সংলগ্ন একটি পুকুরে এলাকার লোকজনের অংশীদারত্ব রয়েছে। ওই পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে প্রতিবেশী কয়েকজনের সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও সমাধান হয়নি।
গত ১০ অক্টোবর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে অন্য অংশীদারদের না জানিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ওই পুকুরে জাল দিয়ে মাছ ধরেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁরা ক্ষিপ্ত হয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মো. হাসেমকে (৪৫) অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর করেন। এ সময় লাঠিসোঁটা দিয়ে আঘাত করে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়। প্রাণভয়ে হাসেম বাড়িতে আশ্রয় নিলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁর পিছু নিয়ে বসতঘরে প্রবেশ করেন এবং ঘর ভাঙচুর করেন। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে তাঁরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। গুরুতর আহত হাসেমকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এ ঘটনার এক দিন পর ১১ অক্টোবর বেলা আড়াইটার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে সঙ্গে নিয়ে ওই পরিবারের বসতঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় ঘরের দরজা, জানালা ও টিন ভাঙচুর করা হয়।
বৃদ্ধা জামানা খাতুন অভিযোগ করেন, তাঁর বাড়িঘর ভাঙচুর করতে এলে বাধা দেওয়ায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁকে ও তাঁর পুত্রবধূ ডেইজী আক্তারকে (২৮) গালিগালাজ ও মারধর করেন। এ সময় একজনের ঘুষির আঘাতে তাঁর ওপরের দুটি দাঁত পড়ে যায়। আরেকজন লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করতে গেলে তা হাত দিয়ে প্রতিহত করার সময় তাঁর ডান হাতের কবজির ওপরের অংশের হাড়ে আঘাত লাগে।
বৃদ্ধা বলেন, ‘সামান্য বিরোধ থাকতেই পারে। তাই বলে দলবল নিয়ে হামলা করতে হবে? আমি এ হামলার বিচার চাই। এ ঘটনায় তার ৩০ হাজার টাকা ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
তবে অভিযুক্ত প্রতিবেশীর মধ্যে নারগিছ আক্তার বলেন, ‘যাঁরা অভিযোগ করছেন, তাঁরাই প্রথমে আমার অসুস্থ স্বামী ফেরদৌসসহ কয়েকজনকে মারধর করেন। ঘরবাড়িতে হামলার অভিযোগ সত্য নয়। পরিকল্পিতভাবে ফাঁসাতে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হচ্ছে।’
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, বৃদ্ধার দাঁত উপড়ে ফেলার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় নতুন কোনো অভিযোগ আসেনি। যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কেএম