দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে যশোরের বেনাপোল ও ভারতের পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে টানা আট দিন বন্ধ থাকবে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম। আগামী ১৭ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে পণ্য বাণিজ্য বন্ধ থাকবে। তবে এ সময়ে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক থাকবে।
বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুহুল আমিন জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে ছুটি এবং বাংলাদেশে সরকারি ছুটি থাকায় বাণিজ্য কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ২৫ অক্টোবর সকাল থেকে পুনরায় আমদানি-রপ্তানি শুরু হবে।
বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মহসিন মিলন বলেন, এ স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০০ ট্রাক পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়। বন্দর থেকে সরকার দৈনিক প্রায় ২০ কোটি টাকা রাজস্ব পায়। সে হিসাবে আট দিন বাণিজ্য বন্ধ থাকলে প্রায় ১৬০ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় পিছিয়ে যেতে পারে।
দীর্ঘ সময় বাণিজ্য বন্ধ থাকায় বন্দরে পণ্যজট ও যানজটের আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের মতে, বেনাপোল দিয়ে শিল্পকারখানার কাঁচামাল, খাদ্যপণ্যসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করা হয়। দেশের আমদানির একটি বড় অংশ এ বন্দর দিয়ে আসায় দীর্ঘ ছুটিতে কাঁচামাল সরবরাহ ও বাজারে আমদানি করা পণ্যের সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে।
ভারতের পেট্রাপোল বন্দর ক্লিয়ারিং এজেন্ট স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্ত্তিক চক্রবর্তী জানান, দুর্গাপূজার ছুটির কারণে ১৭ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত পেট্রাপোল বন্দরে বাণিজ্য কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। বাংলাদেশেও ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর ছুটি থাকায় দুই দেশের মধ্যে টানা আট দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকবে। ২৫ অক্টোবর সকাল থেকে আবার বাণিজ্য কার্যক্রম শুরু হবে।
তবে পণ্য বাণিজ্য বন্ধ থাকলেও যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক থাকবে বলে জানিয়েছেন বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান। তিনি বলেন, দুর্গাপূজার সময়ে দুই দেশের মধ্যে যাত্রী চলাচল বাড়তে পারে। এ কারণে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে ইমিগ্রেশন ডেস্কে অতিরিক্ত কর্মকর্তা নিয়োজিত করা হয়েছে।
বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুহুল আমিন আরও জানান, ভারতীয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এবং দুই দেশের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের পক্ষ থেকে ছুটির বিষয়টি বন্দর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে ১৮ ও ১৯ অক্টোবর বন্দরের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম ও কাস্টমসের কাজ স্বাভাবিক থাকবে। এ সময়ে আগে আমদানি করা পণ্য খালাস করা যাবে। পণ্য খালাস শেষে ভারতীয় খালি ট্রাকগুলোও নিজ দেশে ফিরে যেতে পারবে।
ছুটি শেষে আগামী ২৫ অক্টোবর সকাল থেকে বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দুই দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আবার স্বাভাবিক হবে।
এমএস/