দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার দুর্গম এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র ভাঙনে বিলীনের মুখে পড়েছে জিগাবাড়ি গ্রাম। নদের পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন তীব্র হওয়ায় প্রতিদিন নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি ও বসতভিটা। এতে গ্রামের অন্তত ৩০টি পরিবার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। যেকোনো সময় ঘরবাড়ি হারানোর আশঙ্কায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নদের পানি কমে যাওয়ায় জিগাবাড়ি এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। ইতোমধ্যে গ্রামের একাংশের বেশ কয়েকটি বসতভিটা, গাছপালা ও আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন এখন গ্রামের চলাচলের একমাত্র মেঠোপথসহ আশপাশের বাড়িঘরের কাছাকাছি পৌঁছেছে। ভাঙনের আশঙ্কায় অনেক পরিবার ঘরবাড়ি সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান করছে।
ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন গ্রামের বাসিন্দা মো. জুয়েল মিয়া (৩৫)। তিনি বলেন, রাতে ভাঙনের শব্দে ঘুমাতে পারেন না। জমিজমার অধিকাংশ আগেই নদীতে বিলীন হয়েছে। এখন শুধু বসতভিটাটুকু অবশিষ্ট রয়েছে, সেটিও ভাঙনের মুখে। দ্রুত পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা না হলে খোলা আকাশের নিচে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।
একই গ্রামের গৃহিণী মোছা. রাবেয়া বেগম (৩৮) বলেন, নিজের চোখের সামনে বাপ-দাদার ভিটেমাটি নদীতে বিলীন হতে দেখা অত্যন্ত কষ্টের। সন্তানদের নিয়ে কোথায় যাবেন, কীভাবে চলবেন—তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি। প্রতিবছর এই সময়ে নদীভাঙনে তাঁদের সবকিছু হারাতে হয়। ত্রাণের পরিবর্তে ভিটেমাটি রক্ষায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
ভাঙন পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান বলেন, জিগাবাড়ি গ্রামের ভাঙন পরিস্থিতি সম্পর্কে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো) বারবার জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সহযোগিতা বা সমাধান পাওয়া যায়নি। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষে এত বড় সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। সরকারি উদ্যোগে টেকসই ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পুরো গ্রাম রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
নদীভাঙনে সহায়-সম্পদ হারানোর আশঙ্কায় থাকা জিগাবাড়ির বাসিন্দারা জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষাব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন থেকে গ্রামটি রক্ষায় দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে।
এমএস/