দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় এক মণ মটর ডাল দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ২০ ফুট উচ্চতার দুর্গাপ্রতিমা। প্রচলিত রংতুলির বদলে প্রতিমাজুড়ে বসানো হচ্ছে ডালের দানা। প্রায় তিন মাসের পরিশ্রমে নিপুণ কারুকাজে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে দেবী দুর্গার অবয়ব। প্রতিমা নির্মাণ ও সাজসজ্জা মিলিয়ে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩০ লাখ টাকা। ব্যতিক্রমী এই শিল্পকর্ম ঘিরে ইতোমধ্যে স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয়েছে কৌতূহল।
দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে শরীয়তপুরের বিভিন্ন মণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রতিমার বৈচিত্র্য, নান্দনিক সাজসজ্জা ও বর্ণিল আলোকসজ্জায় মণ্ডপগুলোকে আকর্ষণীয় করে তুলছেন আয়োজকেরা। এ বছর ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে জেলায় ১০২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদ্যাপিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের ঘোষপাড়া শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ ধাম দুর্গামন্দিরের আয়োজনটি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।
মন্দিরটিতে প্রচলিত উপকরণের পাশাপাশি মটর ডাল ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছে ২০ ফুট উচ্চতার দুর্গাপ্রতিমা। খুলনার পাইকগাছা থেকে আসা প্রধান প্রতিমাশিল্পী রাজিব সরদার প্রায় ২৫ বছর ধরে প্রতিমা নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত। গত পাঁচ বছর ধরে তিনি ঘোষপাড়া মন্দিরে প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন। এবার নতুন কিছু করার ভাবনা থেকেই মটর ডাল দিয়ে প্রতিমা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।
রাজিব সরদার বলেন, প্রায় ২৫ বছর ধরে প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন তিনি। সাধারণত মাটি দিয়ে প্রতিমা গড়ে রংতুলির আঁচড়ে সেটিকে পূর্ণতা দেওয়া হয়। তবে প্রতিবছর একই ধরনের কাজ না করে নতুন কিছু করার চেষ্টা থাকে। সেই ভাবনা থেকেই এবার মটর ডাল দিয়ে দুর্গাপ্রতিমা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন। আশা করছেন, প্রতিমাটি সবার ভালো লাগবে।
প্রতিমাশিল্পী বিধান মণ্ডল বলেন, মটর ডাল দিয়ে প্রতিমা তৈরি করা সাধারণ প্রতিমা নির্মাণের চেয়ে অনেক বেশি ধৈর্য ও মনোযোগের কাজ। একটি একটি করে ডাল প্রতিমার গায়ে বসাতে হয়। সামান্য এদিক-সেদিক হলেই নকশার সৌন্দর্য নষ্ট হতে পারে। তখন আবার সেটি ঠিক করতে হয়। তাই প্রতিটি ধাপে সতর্ক থাকতে হচ্ছে। প্রতিমার প্রতিটি অংশ নিখুঁত ও দৃষ্টিনন্দন করতে তাঁরা দিনরাত পরিশ্রম করছেন। কাজটি কঠিন হলেও মানুষের ভালো লাগা ও প্রশংসাই তাঁদের শ্রমের সার্থকতা বলে মনে করেন তিনি।
প্রতিমার ব্যতিক্রমী কারুকাজ দেখতে এসে দর্শনার্থী শিল্পী রানী ঘোষ বলেন, এই মন্দিরে প্রতিবছরই নতুন কিছু করার চেষ্টা করা হয়। গত বছর ধানের প্রতিমা দেখেছেন, এবার মটর ডাল দিয়ে তৈরি প্রতিমা দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। এত ছোট ছোট ডাল দিয়ে এমন সুন্দর কারুকাজ করা সহজ নয়। বিশেষ করে দেবীর মুখের গড়ন ও প্রতিমার সামগ্রিক সৌন্দর্য তাঁর ভালো লেগেছে। আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদেরও প্রতিমাটি দেখতে আসার কথা বলেছেন তিনি।
মন্দির কমিটির সভাপতি লালা ঘোষ বলেন, প্রতিবছরই মন্দিরে ব্যতিক্রমী কিছু করার চেষ্টা করেন তাঁরা। গত বছর ধান দিয়ে প্রতিমা তৈরি করা হয়েছিল। এবার দর্শনার্থীদের নতুন কিছু উপহার দিতে মটর ডাল দিয়ে প্রতিমা নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে অন্তত এক মণ ডাল লাগছে। প্রতিমা নির্মাণ ও সাজসজ্জা মিলিয়ে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয় হবে। দূরদূরান্ত থেকে ভক্ত ও দর্শনার্থীরা এই আয়োজন দেখতে আসবেন বলে প্রত্যাশা তাঁদের।
বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ শরীয়তপুর জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সত্যজিৎ ঘোষ বলেন, এ বছর শরীয়তপুর জেলায় ১০২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদ্যাপিত হবে। পূজাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মণ্ডপে প্রস্তুতি চলছে। সবার সহযোগিতায় আনন্দঘন, উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদ্যাপিত হবে বলে তাঁরা আশা করছেন। ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে সব ধর্মের মানুষ যেন নির্বিঘ্নে উৎসব উপভোগ করতে পারেন, সে জন্য প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
এমএস/