দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে শনিবার জেলা প্রশাসন ও এস এম সুলতান সংগ্রহশালার আয়োজনে নড়াইলের সুলতান কমপ্লেক্সে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।
কর্মসূচির মধ্যে ছিল কোরআনখানি, শিল্পীর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মাজার জিয়ারত, দোয়া মাহফিল, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ।
শিশুস্বর্গে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন এস এম সুলতান সংগ্রহশালার কিউরেটর তন্দ্রা মুখার্জী। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম।
এ সময় বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমান আলেক, এস এম সুলতান ফাউন্ডেশনের সাবেক সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেন শিকদার, জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মশিউর রহমান বাবু, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শেখ হানিফ ও সাংবাদিক আলমগীর সিদ্দিকীসহ অন্যরা।
১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট তৎকালীন মহকুমা শহর নড়াইলের মাছিমদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এস এম সুলতান। তাঁর বাবা মো. মেছের আলী ও মা মোছা. মাজু বিবি আদর করে তাঁর নাম রেখেছিলেন লাল মিয়া।
শিল্পী তাঁর দীর্ঘ ও বোহেমিয়ান জীবনে তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলেছেন দেশ, মাটি, প্রকৃতি ও ঘামে ভেজা মেহনতি মানুষের জীবনসংগ্রাম। তাঁর বিখ্যাত চিত্রকর্মের মধ্যে রয়েছে ‘পাট কাটা’, ‘ধান কাটা’, ‘ধান ঝাড়া’, ‘চর দখল’, ‘ধান মাড়াই’, ‘জমি কর্ষণে যাত্রা’, ‘মাছ ধরা’, ‘নদীর ঘাটে’, ‘ধান ভানা’, ‘গুন টানা’, ‘ফসল কাটার ক্ষণে’, ‘শরতের গ্রামীণ জীবন’ ও ‘শাপলা তোলা’।
১৯৫০ সালে ইউরোপ সফরের সময় একটি যৌথ প্রদর্শনীতে পাবলো পিকাসো, রাউল ডুফি, সালভাদর দালি, পল ক্লি ও অঁরি মাতিসের মতো বিশ্বখ্যাত শিল্পীদের ছবির সঙ্গে এস এম সুলতানের চিত্রকর্ম প্রদর্শিত হয়। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ওই প্রদর্শনীতে এসব শিল্পীর সঙ্গে ছবি প্রদর্শিত হওয়া একমাত্র এশীয় শিল্পী ছিলেন তিনি।
শিল্পকলায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এস এম সুলতান ১৯৮২ সালে একুশে পদক, ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের রেসিডেন্ট আর্টিস্টের স্বীকৃতি, ১৯৮৬ সালে চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননা এবং ১৯৯৩ সালে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোরের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন এই বরেণ্য চিত্রশিল্পী।
এমএস/