দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায়। প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করে এখন মণ্ডপ সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা ও শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজকরা। দেবী দুর্গার আগমনকে সামনে রেখে ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের অপেক্ষায় রয়েছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
এ বছর কলাপাড়া উপজেলায় ১৭টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সব মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। কোথাও চলছে প্রতিমায় রঙের শেষ আঁচড়, কোথাও মণ্ডপ সাজানো, আবার কোথাও চলছে আলোকসজ্জা ও তোরণ নির্মাণের কাজ।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে উপজেলার শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির, শ্রীশ্রী দুর্গা ও কালিমাতা মন্দির, আলিপুর কালিমাতা মন্দির এবং শ্রীশ্রী সার্বজনীন দুর্গামন্দিরসহ কয়েকটি পূজামণ্ডপ ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। প্রতিমাশিল্পীদের নিপুণ হাতে তৈরি দেবী দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমায় ফুটে উঠেছে নান্দনিকতা।
প্রতিমাশিল্পী নিলয় গাইন বলেন, মহালয়ার দিন থেকে দেবী দুর্গার প্রতিমার চোখ আঁকা ও চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার কাজ শুরু হয়। দেবী দুর্গার পাশাপাশি গণেশ, কার্তিক, লক্ষ্মী ও সরস্বতীর প্রতিমাও সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। ছোটবেলা থেকেই তিনি প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন। মাটির কাজ শেষ হওয়ার পর রং-তুলির আঁচড়ে প্রতিমা পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়। বিশেষ করে চোখ-মুখের অভিব্যক্তি ও অলংকারের কাজে অনেক সময় ও যত্ন প্রয়োজন। পূজা যত ঘনিয়ে আসে, তাঁদের ব্যস্ততাও তত বাড়ে।
প্রতিমাশিল্পীদের পাশাপাশি পূজামণ্ডপ ঘিরে ব্যস্ততা বেড়েছে আয়োজকদেরও। মণ্ডপ সাজানো, আলোকসজ্জা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পূজার অন্যান্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে দিন-রাত কাজ করছেন তাঁরা। পূজার দিনগুলোতে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মণ্ডপগুলো মুখর হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।
কুয়াকাটা শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ ও তীর্থযাত্রী সেবাশ্রম মন্দিরের আহ্বায়ক প্রকৌশলী নীহার রঞ্জন মণ্ডল বলেন, মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার আগমনের প্রতীক্ষা শুরু হয়। শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এবার দেবীর আগমন ঘোড়ায় এবং গমন নৌকায়। তিনি বলেন, আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হোসেন বলেন, দুর্গাপূজা ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। উপজেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে পুলিশের পাশাপাশি আনসার ও ভিডিপির সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার থাকবে।
এমএস/