দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনালে যুক্ত হতে যাচ্ছে পাঁচটি অত্যাধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্ট। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে এসব আধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে ফ্যান ঝৌ-৬ নামের একটি জাহাজ পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনালের জেটিতে পৌঁছেছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রমকে আরও আধুনিক, দ্রুত ও দক্ষ করার লক্ষ্যেই এসব সরঞ্জাম আনা হয়েছে। প্রায় দুই বছর পর আধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিং সরঞ্জামবাহী জাহাজের আগমনের মধ্য দিয়ে বন্দরের জেটিতে সরাসরি জাহাজ বার্থিং কার্যক্রমও পুনরায় শুরু হয়েছে।
প্রথম টার্মিনালের জন্য আনা পাঁচটি যন্ত্রপাতির মধ্যে রয়েছে দুটি এসটিএস (শিপ-টু-শোর/কোয়াই গ্যান্ট্রি ক্রেন), প্রতিটির ধারণক্ষমতা ৮০ টন। এ ছাড়া রয়েছে দুটি আরটিজি (রাবার-টায়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন), প্রতিটির ধারণক্ষমতা ৪০ টন এবং একটি এমএইচসি (মোবাইল হারবার ক্রেন), যার ধারণক্ষমতা ৮০ টন। এসব যন্ত্রপাতি নির্মাণ করেছে এনপিএইচএমসি (Nanjing Port & Harbor Machinery Company) ও এক্সসিএমজি (Xuzhou Construction Machinery Group)।
পায়রা বন্দর ট্রাফিক বিভাগের উপপরিচালক আজিজুর রহমান জানান, নতুন এসটিএস ক্রেনের মাধ্যমে মাদার ভেসেল থেকে কনটেইনার লোড-আনলোড করা হবে। আরটিজি ক্রেন দিয়ে ট্রেইলার থেকে কনটেইনার ওঠানামা এবং ইয়ার্ডে কনটেইনার সংরক্ষণ ও স্থানান্তরের কাজ করা হবে। অন্যদিকে এমএইচসির মাধ্যমে বাল্ক কার্গো ও কনটেইনার ডিসচার্জিং এবং শিপিং কার্যক্রম আরও দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, আধুনিক এসব সরঞ্জাম যুক্ত হওয়ায় কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের টার্নঅ্যারাউন্ড সময় কমবে এবং অপারেশনাল দক্ষতা বাড়বে। একই সঙ্গে কম সময়ে জাহাজ থেকে কার্গো ও কনটেইনার খালাস করা সম্ভব হবে।
পায়রা বন্দরের হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন এস এম শরিফুর রহমান জানান, ১৭০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৬ মিটার গভীরতার ফ্যান ঝৌ-৬ জাহাজটি এসব ইকুইপমেন্ট নিয়ে গত ১৮ সেপ্টেম্বর চীনের পিংতান বন্দর থেকে পায়রার উদ্দেশে যাত্রা করে। এসব সরঞ্জাম যুক্ত হওয়ায় বন্দরের কার্গো অপারেশন অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে রাবনাবাদ চ্যানেলের নাব্যতা বাড়ানো গেলে অধিক ড্রাফটের বড় মাদার ভেসেল সরাসরি পায়রা বন্দরের জেটিতে আসতে পারবে। এতে বৃহৎ পরিমাণ কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের পাশাপাশি দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে পায়রা বন্দরের অবদান আরও বাড়বে।
পায়রা বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল সৈয়দ সাইফ উল ইসলাম বলেন, অত্যাধুনিক পাঁচটি কার্গো হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্ট যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে বন্দরটি ধীরে ধীরে পূর্ণ সক্ষমতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। গাড়ি আমদানির জন্য ডেডিকেটেড ইয়ার্ড শেডের কাজও সম্পূর্ণ হয়েছে। একই সঙ্গে ক্রেনগুলো আসায় ৬৫০ মিটার মাল্টিপারপাস বার্থও পূর্ণতা পেয়েছে।
তিনি বলেন, নাব্যতা ধরে রাখতে পারলেই পায়রা বন্দরকে পূর্ণ সক্ষমতায় চালু করা সম্ভব হবে। প্রযুক্তিনির্ভর কার্গো ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বন্দরের অপারেশনাল সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের বন্দর হিসেবে এর সক্ষমতা বিকাশের পথও সুগম হবে।
এর আগে ২০২৪ সালের ১৫ মে ৫০ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন পাথর নিয়ে এমভি জেইন এবং একই বছরের ১ নভেম্বর ৪৮ হাজার ৫১১ মেট্রিক টন পাথর নিয়ে এমভি ডা হং-১৬ নামের দুটি মাদার ভেসেল পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনালে সরাসরি বার্থিং করে পণ্য খালাস করেছিল।
এমএস/