দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন (১৫) হত্যার ঘটনায় সুমন নামে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম নগরী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) আনিসুজ্জামান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত তাজমিন কুমিল্লার রেসকোর্স এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করত। তার বাবা আবদুল আলীম রেনাটা পিএলসি, কুমিল্লায় কর্মরত। তাজমিন কুমিল্লার ফরিদা বিদ্যায়তনে সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। তাদের গ্রামের বাড়ি যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা গ্রামে।
নিখোঁজ হওয়ার পর বাবাকে ফোন করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাজমিন বলেছিল, ‘বাবা, তারা আমাকে আটকে রেখেছে। তুমি এসে আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাও। না হয় ওরা আমাকে মেরে ফেলবে বাবা।’ মেয়ের মুখে এমন আকুতি শুনেও তাকে উদ্ধার করতে পারেননি বাবা। এর কয়েক ঘণ্টা পরই ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয় তার মরদেহ।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বান্ধবীর বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। পরে ওই বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজারে বেড়াতে যায় সে। সেখান থেকে বুধবার রাতে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হয়। পথিমধ্যে বাবাকে ফোন করে দুর্বৃত্তদের হাতে আটকে পড়ার কথা জানায় সে। দ্রুত উদ্ধার না করলে তাকে মেরে ফেলা হবে বলেও জানায়।
তবে ঠিক কোথায় তাকে আটকে রাখা হয়েছে, তা বাবাকে জানাতে পারেনি তাজমিন। এর কিছুক্ষণ পর মেয়ের ফোনে একাধিকবার কল করেন আবদুল আলীম। কিন্তু আর ফোন ধরেনি তাজমিন।
এরপর বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কসংলগ্ন লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর (মানুমুড়া) এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, ধানক্ষেতে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে তারা পুলিশকে খবর দেন। মরদেহের কাছেই একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। খবর পেয়ে লালমাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং অটোরিকশাটি হেফাজতে নেয়।
মেয়েকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন বাবা আবদুল আলীম। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘মেয়েটি রাতে ফোনে কেঁদে কেঁদে উদ্ধারের আকুতি জানিয়েছিল। কিন্তু কোথায় আছে বলতে পারেনি। সকালে এসে থানায় আমাকে মেয়ের লাশ দেখতে হলো।’
ফরিদা বিদ্যায়তনের প্রধান শিক্ষক আবু হানিফ জানান, তাজমিন ওই বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত। হাজিরা খাতায় তার রোল নম্বর ছিল ৩০। তবে গত মার্চ থেকে সে অন্য একটি স্কুলে ভর্তি হয়।
লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাজমিনকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে। হত্যাকাণ্ডের সূত্র খুঁজে বের করা এবং ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক তদন্ত সংস্থা কাজ শুরু করেছে।
এ ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমনকে গ্রেপ্তার করা হলেও হত্যাকাণ্ডে তার সংশ্লিষ্টতা এবং ঘটনার বিস্তারিত জানতে তদন্ত চলছে।
কেএম