দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর পেটে গজ রেখে সেলাই দেওয়ার অভিযোগ ওঠা ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ নার্স বীথী আক্তার (২৫) মারা গেছেন। প্রায় ছয় মাস ধরে শারীরিক নানা জটিলতার সঙ্গে লড়াই করে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার স্বামী মো. রাকিবুল ইসলাম।
বীথী আক্তার রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তমিজ উদ্দিন মৃধার পাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. রাকিবুল ইসলামের স্ত্রী।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বীথীর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, ওই অস্ত্রোপচারের সময় ডা. তামান্না ও ইন্টার্ন চিকিৎসক অরবিন্দের মাধ্যমে তাঁর পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়া হয়।
এরপর থেকেই বীথী শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগতে থাকেন। তীব্র ব্যথা ও শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রায় দুই মাস পর তাঁকে আবার অস্ত্রোপচার করাতে হয়। পরে পেটের নাড়িতে গুরুতর জটিলতা দেখা দিলে তাঁকে আইসিইউতে চিকিৎসা নিতে হয়। এ সময় বাইপাস সার্জারিসহ একাধিক জটিল চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পরিবার।
দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বীথীর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। একসময় তার ওজন ছিল ৬১ কেজি। অসুস্থতার মধ্যে তা কমে ৩৮ কেজিতে নেমে আসে।
পরিবার জানায়, সন্তান জন্মের পরও প্রায় চার মাস নিজের নবজাতক সন্তানকে কোলে নেওয়া কিংবা দুধ খাওয়ানোর মতো অবস্থায় ছিলেন না বীথী।
অবশেষে বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পরিবারের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকদের অবহেলার কারণেই বীথীর পেটে গজ রয়ে যায়। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল হুদা বলেন, বীথীর মৃত্যুর খবর তিনি শুনেছেন। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। জেলা প্রশাসক ও তিনি ইতিমধ্যে বীথীর বাড়িতে গিয়ে তাঁর সন্তানকে দুইবার দেখে এসেছেন। এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত।